অলৌকিক নেতা
মোস্তাক রহমান
তিনি ধেয়ে আসলেন
‘অগ্নি প্রলয়’ হয়ে ‘মজলুম’ মানুষের সাথে,
গঙ্গার মৃতদেহে জীবন ফেরাতে। আমাদের ‘অলৌকিক’ নেতা।
যেন তিনি লোকাতীত কেউ
লক্ষ ফেরেস্তা সাথে দেবদূত; ঝলমলে আগুনের কণা।
সেও ছিল আগুনের দিন, উড্ডীন অগ্নি বলাকা।
কোন নব্য ত্রিশূল তাঁর হাতে, কন্ঠ কি
আলি হায়দর ? দমে দমে দীর্ণ দরিয়া
বর্বর অসুরের শোর ?
হায়! এ কি বিপ্লব, মারশিয়া ? মানুষের সমূদ্রে
মুখে তাঁর মৃত্যুর গান? দীর্ঘ এ সর্পিল মৃতদেহ
কার ? এ গঙ্গার, না সভ্যতার ?
বারাণসি, মুঙের, তাণ্ডা, হরিদ্বার এইসব সভ্যতা কার ?
বরেন্দ্র, পন্ড্রুক, রাঢ় এইসব সভ্যতা কার?
কাকে তুমি খুন করো ইতর, পামর ?
এই নারদ কি তোমাদের না?
করতোয়া, বড়াল কুমার ? কপোতাক্ষ, আত্রাই,
ভৈরব, শিবসা, পশুর এইসব কার ? মানুষের না ?
মানুষের অধিকার কেঁড়ে নেবে, নাও।
নদীদের অধিকার? কাছিমের? গিরগিটি, তক্ষক,
ঘড়িয়াল ইহাদের? ছোট তৃণ,
তৃণভোজি লক্ষ হাজার সব পোকাদের ?
নদীদের অধিকার, সে অবারিত জল দেবে।
সে তো প্রতিনিধি আল্লার, হুকুমের দাস পরাক্রম
প্রতিপালকের।
নদীর ‘ইবাদত’ তুমি জানো ?
জানো তাঁর ‘হিক্কুল ইবাদ’ ?
তাঁকে অবারিত করো, শৃঙ্খল খুলে দাও
ভেঙে দাও সব বাঁধ।
‘রুবুবিয়্যা’ জানো ? প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা চাও।
‘তওবা’ করো। পুণরায় মানুষ হও।
