মার্কিন দম্ভের পতন! আধুনিক ইতিহাসে আমেরিকার ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে ইরান

মার্কিন দম্ভের পতন! আধুনিক ইতিহাসে আমেরিকার ওপর সবচেয়ে বড় আঘাত হেনেছে ইরান

নতুন প্রভাত ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির কয়েক দশকের ‘অজেয়’ ভাবমর্যাদা ধূলিসাৎ করে দিয়েছে ইরান। ওয়াশিংটন পোস্টের এক চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরানের নজিরবিহীন ও নিখুঁত হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের ১৫টি মার্কিন ঘাঁটিতে অন্তত ২২৮টি স্থাপনা ও সামরিক সরঞ্জাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। আধুনিক আমেরিকার ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রপক্ষের কাছ থেকে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে এটাই সবচেয়ে বড় এবং বিস্তৃত আঘাত।

ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, উচ্চ-রেজোলিউশনের স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সউদী আরব, জর্ডান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো এখন আর নিরাপদ নয়। হামলার তালিকায় রয়েছে অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনা যেমন—প্যাট্রিয়ট মিসাইল ডিফেন্স সিস্টেম, থাড রাডার, স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন সেন্টার, জ্বালানি ডিপো এবং বিমান রাখার হ্যাঙ্গার।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন সরকার ও পেন্টাগন ক্ষয়ক্ষতির যে হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করেছে, প্রকৃত চিত্র তার চেয়ে বহুগুণ ভয়াবহ। বাহরাইনে মার্কিন ৫ম নৌবহরের সদর দপ্তর এতটাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যে, সেখান থেকে কার্যক্রম সরিয়ে ফিলাডেলফিয়ার টাম্পায় নিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষতি মেরামতেই কয়েক বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে।

পেন্টাগন শুরুতে হতাহতের বিষয়টি এড়িয়ে গেলেও এখন স্বীকার করছে যে, অন্তত ৭ জন মার্কিন সেনা নিহত এবং ৪০০-এর বেশি সেনা আহত হয়েছেন। তবে অনেক বিশ্লেষকের মতে, এই সংখ্যা আরও অনেক বেশি। বিশেষ করে মস্তিষ্কে আঘাতজনিত (Traumatic Brain Injury) সমস্যায় ভোগা সেনার সংখ্যা ব্যাপক হারে বাড়ছে, যা অতীতেও গোপন করার চেষ্টা করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছিল যে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস করতেই এই যুদ্ধ। কিন্তু রয়টার্সের প্রতিবেদনে গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে বলা হয়েছে, এত ধ্বংসযজ্ঞ এবং ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ করার পরও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের সময়সীমা একবিন্দুও পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ যে উদ্দেশ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তা কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।

সাবেক মার্কিন মেরিন কর্নেল মার্ক কানসিয়ান বলেন, “ইরানের হামলাগুলো ছিল অত্যন্ত নিখুঁত।” এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার বিশাল সামরিক কাঠামো এখন কেবল লক্ষ্যবস্তুর মানচিত্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমেরিকা এখন সম্মানজনকভাবে এই যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে, কারণ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ (যেমন প্যাট্রিয়ট ও থাড ইন্টারসেপ্টর) আশঙ্কাজনক হারে ফুরিয়ে আসছে।

উপসংহারে বলা যায়, স্যাটেলাইট চিত্রগুলো আমেরিকার সামরিক আধিপত্যের এক রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরেছে। দশকের পর দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যকে যারা নিজেদের হাতের মুঠোয় ভেবেছিল, ইরানের ড্রোন ও মিসাইল প্রযুক্তি তাদের সেই দম্ভ ভেঙে দিয়েছে। সূত্র: দ্য নর্থ স্টার।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট