প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
|

প্রশাসনিক-অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকাকেন্দ্রিক জনঘনত্ব ও চাপ কমাতে প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিকেন্দ্রীকরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৯ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৪তম কার্যদিবসে তিনি সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজধানীকে ক্লিন ও গ্রিন সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে জাপানি ‘মিয়াওয়াকি’ ফরেস্ট পদ্ধতিতে ছোট ছোট খালি জায়গায় ঘন সবুজায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন এলাকায় আগামী পাঁচ বছরে ৫ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি মেট্রোরেল ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নিচের খালি জায়গাও সবুজায়নের আওতায় আনা হবে।
তিনি জানান, পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে পরিবেশ অধিদপ্তরকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ঢাকাকে বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেন, চাকরি, শিক্ষা ও চিকিৎসার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে ঢাকাকেন্দ্রিক হয়ে পড়েছে। ফলে সারাদেশ থেকে মানুষের ঢাকামুখী প্রবণতা বেড়েছে। এই চাপ কমাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সমানভাবে উন্নয়ন ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ শিল্পাঞ্চল, উন্নত চিকিৎসা সুবিধা এবং মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। এতে মানুষ ঢাকায় আসার প্রবণতা কমবে এবং রাজধানীর ওপর চাপ হ্রাস পাবে।
ময়মনসিংহ-৬ আসনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শহরের বিস্তারের ফলে রেললাইন ও অবকাঠামো এখন নগর এলাকার ভেতরে চলে এসেছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিকল্পিত নগরায়নের অভাবে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দেশটি আয়তনে ছোট হলেও জনসংখ্যা ও চাহিদা বড়। তাই ভূমি ব্যবস্থাপনা ও ব্যয়ের বিষয়টি অত্যন্ত সতর্কভাবে বিবেচনা করতে হয়। সব শহরের জন্য আলাদা পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিয়ে কুমিল্লা-৪ আসনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি জানান, মোট ৪ কোটি পরিবারকে ধাপে ধাপে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবারকে আড়াই হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একই ব্যক্তি যেন একাধিক সামাজিক সুবিধা না পান, সে জন্য ডাটাবেজ সমন্বয় করে পুনরাবৃত্তি কমানো হবে। এতে সহায়তার স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।
তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, এই অর্থ স্থানীয় পর্যায়ে খরচ হওয়ায় দেশীয় উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়বে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

Similar Posts