হরমুজের প্রভাব পানামা খালে, সিরিয়াল পেতে ৪ মিলিয়ন ডলার খরচ

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার প্রভাব ব্যাপকভাবে পড়েছে পানামা খালে। পণ্য ও জ্বালানি বহনকারী জাহাজগুলোর লাইন কয়েক কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছেছে। এই অবস্থায় বাড়তি অর্থ দিয়ে আগে সিরিয়াল কিনতে চাচ্ছে জাহাজগুলো।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বহনকারী ট্যাঙ্কার দ্রুত পারাপারের জন্য খাল কর্তৃপক্ষের নিলামে ৪ মিলিয়ন ডলার দিয়েছে। ঠিক এই জাহাজটিকে মার্চের আগে তথা হরমুজ প্রণালি বন্ধের আগে ১ মিলিয়ন ডলারেরও কম দিতে হতো।

খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যেসব জাহাজ আগে থেকে বুকিং করে নির্ধারিত সময়ে পৌঁছায়, তাদের সাধারণত দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করতে হয় না। অধিকাংশ জাহাজই আগে থেকে বুকিং করে আসে। তবে যুদ্ধের পর থেকে এ ধরনের লাইন এড়ানোর পেমেন্টের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

গার্ডিয়ান জানিয়েছে, পানামা খালে প্রবেশ করতে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ও কার্গো জাহাজগুলোকে এখন প্রায় সাড়ে তিন দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে এই খালে জাহাজ চলাচল বেড়ে যাওয়ায় এই জট তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ৫০ মাইল (৮২ কিলোমিটার) দীর্ঘ নৌপথে জট লেগেছে। যা খালটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জট।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিভিন্ন পণ্যের রপ্তানি বাড়ার কারণে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে খাল দিয়ে চলাচল বেড়েছে। এই কারণে জট আরও তীব্র হয়েছে। খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিলামের মূল্য নির্ধারণ অবশ্য তারা করে না। গ্রাহকদের জরুরি প্রয়োজন, বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার, বৈশ্বিক সরবরাহ-চাহিদা, ভাড়া ও জ্বালানির দামের মতো বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এটি নির্ভর করে।

ব্লুমবার্গের তথ্য অনুযায়ী, সাত দিনের গড় হিসেবে এই অপেক্ষার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। যেখানে বুকিং থাকা ও না থাকা—উভয় ধরনের জাহাজই অন্তর্ভুক্ত। ওডিন মেরিন গ্রুপ বলছে, খাল দিয়ে পারাপারের প্রতিযোগিতা সামনের দিনগুলোতেও বেশি থাকবে, ফলে অতিরিক্ত ফি বা প্রিমিয়াম উচ্চ পর্যায়েই থাকবে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *