দিল্লির কল্পকাহিনীর ঝড়ে ঢাকা অনড়

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দি ট্রিবিউনে জয়তী মালহোত্রা দাবি করছেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে না দিলে ব্রিকস সম্মেলনে আসবেন না তারেক রহমান। আবার এনডিটিভি বলছে এ মাসের শেষ সপ্তাহে ভারত সফরে আসছেন তারেক রহমান। সর্বশেষ তারেকের ভারত সফর নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল। ঢাকা এখন পর্যন্ত বলে আসছে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। একই সাথে বাংলাদেশ ও ভারতের চিন্তকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাসিনার পুনর্বাসন ও দুই দেশের সম্পর্কের নতুন ধারা সংযোজন নিয়ে যে বিতর্কের ঝড় তুলেছেন তাতে এসব তথ্যের কতটা সত্যি, কতটা অনির্ভরযোগ্য তা নিয়ে বিস্তর ফারাক রয়েছে। বাস্তবে বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকারের সাথে সম্পর্ক রিসেট নাকি হাসিনাকে ভারতে রেখেই আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন কোনটি চূড়ান্ত করবে তা নিয়ে ভারতের অবস্থানে মনে হচ্ছে ‘শ্যাম রাখি না কুল রাখি’ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দাম হোসেনের সাক্ষাৎকার নিয়ে এক প্রতিবেদনে দি প্রিন্ট বলছে খুব শিগগিরই বাংলাদেশে এবার জেন জি আলফা রেভ্যুউলিশন ঘটবে। বাংলাদেশে জুলাই আন্দোলন আওয়ামী সরকারের পতনের জন্যে ডিপস্টেটের এক ষড়যন্ত্র ছিল এবং তা নস্যাৎ করে দিতে জেন জি আলফা রেভ্যুউলিশনের প্রস্তুতি চলছে ভারত এবং বাংলাদেশে। ভারতীয় চিন্তক বীণা সিক্রি, রিভা গাঙ্গুলি, রাধা দত্ত, জুলাই আন্দোলনকে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান মানতে নারাজ। এরাও এ বিপ্লবকে মেটিকুলাস ডিজাইন বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন। আনন্দবাজারে ভারতে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানক সর্বশেষ সাক্ষাৎকারে নেত্রী হাসিনার সাথে নিজে ও বিপুলসংখ্যক আওয়ামী নেতাকর্মীর একযোগে বাংলাদেশে উত্তাল গণ-অভ্যুত্থান সৃষ্টির আভাস দিয়েছেন। এদের সবার টার্গেট ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরে আসার হাসিনার ঘোষণাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকারী বাংলাদেশী কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান তার এসএফ মিডিয়া নিউজে বলেছেন, র-এর প্রধান পরাগ জৈন ঢাকায় সফরে এসে দাবি তোলেন, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে তার বিরুদ্ধে যতগুলো মামলা রয়েছে তা বাতিল করতে হবে। বিচার করলে নতুন মামলা দিয়ে বিচার করতে হবে। তাকে এসএসএফ’র নিরাপত্তা দিতে হবে। তাকে রাখতে হবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। এমনকি সাকিব আল হাসান, নওফেলের বাড়িতে হামলা অগ্নিসংযোগে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার দাবি করা হয়েছে ভারতের তরফ থেকে।

ভারতের স্ট্র্র্যাট নিউজ গ্লোবাল বলছে, পরাগ জৈনর ঢাকা সফর দু’দেশের মধ্যেকার নিরাপত্তা সম্পর্কের নীরব বিন্যাস ও হাসিনাকে ঘিরে উত্তেজনাময় বিতর্কের মধ্যে নিরাপত্তা চ্যানেল সচল রাখার প্রয়াস। একই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলা হচ্ছে হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এলে মধ্যবর্তী নির্বাচন দিতে হবে। সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রকৃত বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করবে এবং ক্ষমতায় পুনরায় বিএনপিকে আনতে সবরকমের যথাসাধ্য চেষ্টা করবে ভারত। অর্থাৎ বাংলাদেশের নির্বাচনে জনগণ কাকে নির্বাচিত করবে তা অতীতে সুজাতা সিংয়ের ফরমুলা বাস্তবায়ন থেকে ভারত আদতে কোনো অবস্থান পরিবর্তন করেনি। হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়ে যাওয়ার পর তার পক্ষে কোনো আপিল না হলেও ফের কিভাবে তার বিরুদ্ধে নতুন মামলায় বিচার সম্ভব তা বিশ্লেষণ করতে যেয়ে সময় টেলিভিশনে একজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, বাচ্চু রাজাকারের (মাওলানা আবুল কালাম আজাদ) বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড হলেও তো তিনি এখন বাংলাদেশে ফিরেছেন, সরকার চাইলে সবই পারে।

টিভি টকশোতে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইনক্লুসিভ নির্বাচন ও আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের কথা প্রথম বলেন ভারতের সাবেক সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। তিনি বলেছিলেন, ইনক্লুসিভ নির্বাচন হলেই তা ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে এবং বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক কিভাবে রচিত হবে তখন দেখা যাবে। এখনো আলোচকরা সেই ধারা অনুসরণ করে বলছেন, আওয়ামী লীগকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে দিতে হবে। দলীয় প্রতীকবিহীন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ব্যাপকমাত্রায় ফিরে আসবে এবং তার আগেই হাসিনা দেশে ফিরে এসে রাজনৈতিক পুনর্বাসনের সুযোগ নিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনে অংশ নেবেন। তাদের একই আভাসের সাথে ভারতীয় চিন্তকদের বক্তব্যের মিল পাওয়া যাচ্ছে। ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেল স্কিল বাংলার উপস্থাপক বলছেন বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে না থাকলে দেশটি পাকিস্তানের দখলে চলে যাবে এবং এর প্রভাব পড়বে ভারতেও। সূত্র: নয়া দিগন্ত

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট