রাজশাহী অঞ্চলে জ্বালানি মজুতের ‘মহোৎসব’

রাজশাহী অঞ্চলে জ্বালানি মজুতের ‘মহোৎসব’

রাজশাহীসহ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলোতে পেট্রল ও অকটেনের চলমান সঙ্কট এবং অস্থিরতাকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী মেতে উঠেছে অবৈধ জ্বালানি মজুতের ‘মহোৎসবে’।

রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নাটোরে প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি উদ্ধার করে চলেছে প্রশাসন। এসব হোতাদের জেলা-জরিমানা করার পরও জ্বালানি মজুতের লাগাম যেন কোনভাবেই টানা যাচ্ছে না।

রাজশাহী ইভেন্ট ক্যালেন্ডার

একদিকে পাম্পগুলোতে তেলের জন্য সাধারণ মানুষের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ লাইন, অন্যদিকে পর্দার আড়ালে সক্রিয় হয়ে উঠা শক্তিশালী কালোবাজারি চক্রের এমন তৎপরতায় বড় প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর।

দেখা গেছে, ভোররাত থেকে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন মোটরসাইকেল ও যানবাহন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও অনেকে কাক্সিক্ষত তেল পাচ্ছেন না। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পাম্পগুলোতে ‘সরবরাহ নেই’ অজুহাত দেয়া হলেও অসাধু চক্রগুলো ড্রাম ভরে তেল সরিয়ে ফেলছে। এই তেল পরবর্তীতে খুচরা বাজারে দ্বিগুণ বা তিনগুণ দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

বিশেষ করে প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে বোতলজাত পেট্রল ও অকটেন চড়া দামে বিক্রি হতে দেখা গেছে। জ্বালানি সঙ্কটে স্থবির হয়ে পড়েছে এসব অঞ্চলের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে দেখা দিয়েছে চরম বিঘ্ন। রাজশাহী শহরের এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘পাম্পে তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়েও তেল পাইনি। অথচ মোড়ের বিভিন্ন দোকানে বোতলে করে ঠিকই বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।’

রাজশাহী ইভেন্ট ক্যালেন্ডার

এদিকে, অবৈধ মজুত রোধে রাজশাহীসহ সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে প্রশাসন তাদের তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। বিভিন্ন স্থানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জেল-জরিমানা ও অবৈধ তেল জব্দ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের এই চেষ্টা সাগরের মধ্যে এক বিন্দু জলের মতো। দৃশ্যত বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। অভিযানের সংবাদ পাওয়ার আগেই মজুতদাররা সতর্ক হয়ে যাচ্ছে, ফলে মূল হোতারা রয়ে যাচ্ছে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন কৃত্রিম সঙ্কট এবং প্রশাসনের কার্যকর ফলাফলের অভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং কালোবাজারি সিন্ডিকেট গুঁড়িয়ে না দিলে উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি ও কৃষি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

গত কয়েকদিনে জ্বালানি মজুতের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, রাজশাহীর তানোরে অবৈধভাবে বিক্রির সময় ১শ ৩৮ লিটার ডিজেল ও ৫ লিটার পেট্রল জব্দ করে সরকারি মূল্যে উপস্থিত গ্রাহকদের মধ্যে বিক্রি করে অবৈধভাবে তেল বিক্রেতাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খানের ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তানোর উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাঈমা খান তানোর পৌর এলাকার তালন্দ গ্রামে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বাড়ির পার্শ্বে উচ্চ মূল্যে জ্বালানি তেল ডিজেল ও পেট্রল বিক্রির সময় তালন্দ গ্রামের ইদ্রিস আলীর পুত্র আমিনুল ইসলামকে (৪৫) ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

এর আগে শুক্রবার (২০ মার্চ) রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলায় অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ পেট্রল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে ‘সততা ট্রেডার্স’ নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। উপজেলার মোল্লাপাড়া বাজারে অভিযান পরিচালনা করেন শিবু দাস সুমিত, যিনি পুঠিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অভিযানে প্রায় ২৫০০ লিটারের বেশি পেট্রল জব্দ করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, জব্দ করা পেট্রল তাৎক্ষণিকভাবে সরকার নির্ধারিত দামে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হয়, যাতে কৃত্রিম সঙ্কট না তৈরি হয় এবং ভোক্তারা ন্যায্যমূল্যে জ্বালানি পেতে পারেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশও দেয়া হয়েছে।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *