সরকার ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে পরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা প্রধানমন্ত্রীসহ ঘনিষ্ঠদের টার্গেট করে দেশী-বিদেশী চক্রের ‘পেইড’ অপপ্রচার
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মেয়াদ পাঁচ মাস অতিক্রমের মধ্যেই সরকার ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে দেশী-বিদেশী একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ তার বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের টার্গেট করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘পেইড’ অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনা। তার সাথে কারা ফিরবেন তার একটি তালিকাসহ ‘ডিসেম্বর টু মার্চ’ রোডম্যাপও তৈরি হয়েছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে দেশে ফেরার অনুকূল প্রেক্ষাপট তৈরি ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে মাঠে নেমেছে তার দোসররা। বর্তমান সরকারকে দুর্বল ও জনমনে অসন্তোষ সৃষ্টি করতেই তারা নানামুখী অপপ্রচার চালাচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিচ্ছেন বিএনপির কিছু অসাধু ও সুবিধাবঞ্চিত ব্যক্তিও। সরকারের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সুবিধা না পাওয়া কিছু বিতর্কিত ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত বিশ্বস্ত মানুষদের টার্গেট করে ‘পেইড’ প্রোপাগান্ডায় মেতে উঠেছেন।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ‘রিউমার স্ক্যানার’-এর জরিপ অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ৩৫১টি এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে ৫০টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন গুজব ছড়ানো হয়েছে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংসহ তার আস্থাভাজন ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চলছে।
সাম্প্রতিক অপপ্রচারের অন্যতম শিকারে পরিণত হয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। সরকারকে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কের মুখে ফেলতে ও অসন্তোষ সৃষ্টি করতে এই দুই প্রভাবশালী মন্ত্রীকে টার্গেট করে একের পর এক মনগড়া ইস্যু তৈরির চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সর্বস্তরে দলীয় বিবেচনায় লোক নিয়োগ দিয়েছিল। ভোটচুরি থেকে শুরু করে যাবতীয় অপকর্মে তারাই মূল ভূমিকা পালন করেছিল। সেই আমলে নিয়োগপ্রাপ্তদের বড় একটি অংশ এখনো প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে বহাল রয়েছেন। তারা বর্তমান সরকারকে বেকায়দায় ফেলে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে প্রচ্ছন্ন চক্রান্ত করছে বলে অভিযোগ।
বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম ও শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন মূলত এই প্রশাসনিক চক্রান্তের শিকার হচ্ছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর মীর শাহ আলম কিছু আমলার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় একটি আমলাতান্ত্রিক চক্র ক্ষুব্ধ হয়। একইসাথে বিএনপির ভেতরের একটি অংশ তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাকে বিতর্কিত করতে উঠেপড়ে লেগেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে এইচএসি পরীক্ষা স্থগিত বা পুনর্বিন্যাসের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনকে এই ষড়যন্ত্রের উদাহরণ হিসেবে দেখছেন অনেকে। আন্দোলনের সময় সড়কে সাধারণ শিক্ষার্থীর চেয়ে অছাত্র, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি বেশি ছিল বলে জানা গেছে।
মীর শাহ আলম পরিবারের নামে কোনো প্রতিষ্ঠান না করার লিখিত নির্দেশনা দিলেও, সেই নির্দেশ উপেক্ষা করে তার পরিবারের সদস্যের নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামকরণের প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে সেই ভুল তথ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে তাকে ট্রোল ও অপপ্রচারের শিকার করা হয়। বিদেশে বসেও কিছু ব্লগার অর্থের বিনিময়ে তার বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছেন। এর পেছনে সরকারের এক মন্ত্রীর এপিএসের নাম উঠে আসছে বলে জানা গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় বৃক্ষ উপড়ে ফেলতে আগে ডালপালা ছাঁটাই করতে হয়। পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার দোসররা প্রধানমন্ত্রীর চারপাশের বিশ্বস্ত মানুষদের বিতর্কিত করে সরকারের ওপর থেকে জনআস্থা নষ্ট করার কৌশল নিয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আনোয়ার উল্লাহ চৌধুরী বলেন, এটা এক ধরনের গভীর ষড়যন্ত্র। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার ছড়ানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। যারা এসব অপকর্মে লিপ্ত তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত।
বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া অপপ্রচার ছড়ানো সমাজে ফিতনা ও বিভ্রান্তি ঘটায়। ইসলামে এ ধরনের কাজ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। মহানবী হযরত মুহাম্মদ সা: বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখেরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন ভালো কথা বলে অথবা চুপ থাকে।’ তাই সবার উচিত গুজব ও প্রোপাগান্ডা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখা গত পাঁচ মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একের পর এক জনগুরুত্বপূর্ণ ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সরকারের এই সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়েই প্রতিপক্ষ ভিন্ন কৌশলে মাঠে নেমেছে বলে মনে করছেন সরকার সংশ্লিষ্টরা। সূত্র: ইনকিলাব
