মাদক নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন বাস্তবায়ন নিশ্চিত করুন
বাংলাদেশের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও জাতি গঠনের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে, যদি না মাদকের ক্রমবর্ধমান আগ্রাসন থামানো যায়। বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মাদকসেবীর সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। এই সংখ্যা ক্রমাগতভাবে বাড়ছে। শুধু যুবক-তরুণের পাশাপাশি বাড়ছে মাদকাসক্ত কিশোর, এমনকি কিশোরীদের সংখ্যাও। শুধু শহর নয়, প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়েছে। সমস্যার গুরুত্ব অনুধাবন করে সরকার মাদক নিয়ন্ত্রণে আইন সংশোধনের পাশাপাশি ব্যাপকভিত্তিক উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে দেশের আইনগত কাঠামোকে আরো আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও কার্যকর করতে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর গেজেট প্রকাশ করেছে। নতুন আইনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক ব্যবসা দমন, ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার ঠেকানো, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব, সাইবার ক্রাইম নিয়ন্ত্রণ শাখা, ডগ স্কোয়াড, মাদকদ্রব্য অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, মানি লন্ডারিং তদন্ত, হাজতখানা, মালখানা, প্রসিকিউশন শাখা, বিশেষ মামলা ব্যবস্থাপনা সেল এবং সীমান্ত এলাকায় সমন্বিত অভিযানের মতো বিষয়ে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদে আইনটি পাস হওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার এর গেজেট প্রকাশিত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সংশোধিত আইনে ডিএনসিকে শুধু প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং পোশাক ও আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত একটি বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, আইনটি সংশোধনের ফলে মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে।
মাদক শুধু মাদকাসক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। মাদকের বিস্তৃতির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে অন্যান্য অপরাধও। মাদক কারবারের নিয়ন্ত্রণ, আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণে বাড়ছে খুনাখুনি। গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠে প্রকাশিত খবরেও দেখা যায়, কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার দেবীনগর গ্রামে মাদক ব্যবসার বিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শুক্রবার রাতে দুজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও মাদকসংক্রান্ত বিরোধে খুনাখুনির ঘটনা গণমাধ্যমে আসছে। এ ছাড়া মাদকের অর্থ সংগ্রহের জন্য কিশোর-তরুণরা চুরি-ডাকাতি-ছিনতাইসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। খুন, ধর্ষণ, পারিবারিক কলহ থেকে শুরু করে আরো অনেক সামাজিক অশান্তির কারণও এই মাদকাসক্তি।
আমরা মনে করি, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী সমন্বিত কার্যক্রম চালাতে হবে। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অনুপ্রবেশ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। গডফাদারসহ ছোট-বড় সব কারবারিকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাশাপাশি মাদকসেবীদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হবে।
