সংবাদ সম্মেলন রাজশাহী জিপিওতে মহিলা দল নেত্রীকে শ্রমিক লীগ নেতার বিরুদ্ধে হয়রানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী জেনারেল পোস্ট অফিসে (জিপিও) নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী জাতীয় শ্রমিক লীগের এক নেতার ইন্ধনে হয়রানি এবং সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগ তুলেছেন রাজশাহী মহানগর মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসমাউল হুসনা ফেরদৌস। গতকাল বুধবার বেলা ১২টায় নগরীর ভেড়িপাড়ার মোড়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযুক্ত শ্রমিক লীগ নেতার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও চাকরিচ্যুতির দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মহিলা দলের নেত্রী আসমাউল হুসনা ফেরদৌস বলেন, তাঁর স্বামী এজাজুর রহমান রাজশাহী পোস্ট অফিসের পরিদর্শক (শহর) হিসেবে কর্মরত। তিনি বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় আসমাউল হুসনা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন দুপুরে স্বামীর জন্য খাবার নিয়ে জিপিওতে যান। গত ৬ জুলাই সোমবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে খাবার নিয়ে জিপিওতে যান। এরপর দুপুর সোয়া ১টার দিকে দুই সাংবাদিক হঠাৎ করে কোনকিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হেনস্তা ও হয়রানি করেন।

মহিলা দলের এই নেত্রীর অভিযোগ, ওই দুই সাংবাদিক তাঁর উপস্থিতির কারণ জেনেও তাঁকে আক্রমণাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেন এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য তুলে না ধরে মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক সংবাদ প্রচার করেছেন।

এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক আক্রোশ ও ষড়যন্ত্র রয়েছে দাবি করে আসমাউল হুসনা বলেন, “নিষিদ্ধঘোষিত আওয়ামী জাতীয় শ্রমিক লীগের অন্তর্গত ‘বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন’ এর কার্যকরী সভাপতি ও পোস্টাল অপারেটর শাহিনুরুল ইসলামের নির্দেশেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই দুই সাংবাদিক আমাকে হেনস্তা করেছেন। শাহিনুরুল ইসলাম বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে দাপটের সাথে চলেছেন এবং তিনি বোয়ালিয়া থানা আওয়ামী লীগেরও সভাপতি ছিলেন। সম্প্রতি তাঁর বদলি হলে ওই পদে আমার স্বামী এজাজুর রহমানকে পদায়ন করা হয়। সেই সাথে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে। এ বিষয়টি মেনে নিতে না পেরেই শাহিনুরুল এই ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।”

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, আসমাউল হুসনার স্বামী এজাজুর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের অন্তর্ভুক্ত ‘বাংলাদেশ পোস্টম্যান ও ডাক কর্মচারী ইউনিয়ন’ (রেজি: নং-বি ২১০৪)-এর রাজশাহী জিপিও ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। গত ঈদুল আজহায় তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবিসংবলিত শুভেচ্ছাব্যানার টাঙালে শাহিনুরুল ইসলাম তাতে বাধা দেন।

এছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীর একটি ব্যানার পোস্ট অফিসের প্রধান ফটক থেকে শাহিনুরুল ইসলাম ও তাঁর লোকজন চুরি করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। এ ঘটনায় গত ১৪ জুন (২০২৬) রাজপাড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, যার প্রেক্ষিতে পুলিশ গত ৭ জুলাই তদন্তও করেছে।

নিজেকে একজন নিরীহ মানুষ ও সমাজসেবী দাবি করে আসমাউল হুসনা ফেরদৌস বলেন, আওয়ামী লীগের দোসররা তাঁর ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। সাংবাদিক সম্মেলনে  ফেরদৌস এর মা মাসুমা বেগম, ৩নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি তাসলিম নির্ঝরা, ২নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সভাপতি রুনা ও ৪নং ওয়ার্ড মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি শারমিনসহ ভুক্তভোগীর পরিবারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহিনুরুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক এসেছিলো কিনা তিনি জানতেন না। তবে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যের কথা বললেও এ বিষয়ে কোন সঠিক উত্তর দিতে পারেননি। কারন বিএনপি দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাহিরে ছিলো। এরমধ্যে নিয়োগ বাণিজ্য কিভাবে ফেরদৌসী ও তার স্বামী করেছে এমনটা বলাতে তিনি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে যান। তবে তিনি আওয়ামী লীগ ও শ্রমিকলীগ নেতা এটা স্বীকার করেছেন।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট