রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্নার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট
নতুন প্রভাত ডেক্স
ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ। ঘটনার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় রোববার আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করা হয়।অনলাইন সংবাদ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান দুপুরে ঢাকার আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবুল কালাম আজাদ জানান, অভিযোগপত্রটি ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে উপস্থাপন করা হবে।
গত মঙ্গলবার রাজধানীর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, পাশের ফ্ল্যাটের সাবলেট ভাড়াটিয়া সোহেল রানা শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহের মাথা বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যান। ঘটনার সময় তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসাতেই ছিলেন।
পরে পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে এবং সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
নিহত রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা ওইদিনই পল্লবী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল ও স্বপ্নাকে আসামি করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রামিসা পল্লবীর একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে বসবাস করত এবং পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর অভিযুক্তরা কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়।
পরে রামিসাকে খুঁজতে গিয়ে তাঁর মা আসামিদের কক্ষের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে অন্যদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে তারা রামিসার মাথাবিহীন মরদেহ দেখতে পান। বাথরুমের একটি বালতিতে রাখা ছিল শিশুটির কাটা মাথা। এ সময় স্বপ্না আক্তার ঘরের ভেতরেই ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না পুলিশকে জানিয়েছেন, সোহেল রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা করেন। পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে মাথা বিচ্ছিন্ন করে এবং জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় ঢাকা আইনজীবী সমিতির সদস্যরা আসামিদের পক্ষে কোনো আইনি সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
