জুলাইয়ে সরবরাহের আশা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে নতুন বরাদ্দ ১৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা
দেশের সব থেকে ব্যয়বহুল ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন’ প্রকল্পে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ১৫ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ থেকে এই তথ্য জানা গেছে। দেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত ৭ এপ্রিল প্রকল্পের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক জ্বালানি বা ফুয়েল লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। মূলত প্রকল্পের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিতেই এই বড় ধরণের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশন থেকে জানা গেছে, নির্মাণকাজের অগ্রগতি এবং সংশোধিত প্রকল্প ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে চলতি (২০২৫-২৬) অর্থবছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) থেকে আরও ৫ হাজার ৮৮ কোটি টাকা বাড়তি বরাদ্দ চেয়েছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। বর্তমানে প্রকল্পটির জন্য চলতি অর্থবছরের আরএডিপিতে বরাদ্দ রয়েছে ১০ হাজার ১১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এই বরাদ্দ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৫ হাজার ১০০ কোটি টাকায়, যা বর্তমান বরাদ্দের তুলনায় প্রায় ৫১ শতাংশ বেশি।সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত এই অর্থের পুরোটা বৈদেশিক ঋণ সহায়তার অংশ। অর্থাৎ, সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন বাড়ছে না, বাড়ছে রাশিয়ার ঋণের টাকার অঙ্ক। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এরই মধ্যে এই অর্থ পুনর্বিন্যাসে অনাপত্তি দিয়েছে। ‘বিশেষ প্রয়োজনে উন্নয়ন সহায়তা’ খাতের থোক বরাদ্দ থেকেই এই অর্থ সমন্বয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে।রূপপুর প্রকল্পটি শুরু থেকেই রাশিয়ার ঋণনির্ভর। ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত আন্তঃরাষ্ট্রীয় ঋণচুক্তির আওতায় প্রায় ১১ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার ঋণসহায়তা নেওয়া হয়। তখন প্রতি ডলারের বিনিময় হার ধরা হয়েছিল ৮০ টাকা। সেই হিসাবে বৈদেশিক ঋণের টাকার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছিল প্রায় ৯১ হাজার ৪০ কোটি টাকা। কিন্তু এক দশকের ব্যবধানে ডলারের দাম বেড়ে এখন ১২২ টাকা ৪০ পয়সায় পৌঁছেছে।ফলে একই পরিমাণ ডলারের বিপরীতে এখন সরকারের দায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ১৬ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, শুধু বিনিময় হার পরিবর্তনের কারণেই টাকার হিসাবে ঋণের অঙ্ক বেড়েছে প্রায় ২৫ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা।এই চাপ সরাসরি এসে পড়েছে পুরো প্রকল্প ব্যয়ের ওপরও। ২০১৬ সালে অনুমোদিত মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি ৯১ লাখ টাকা। কিন্তু সংশোধিত প্রস্তাবে সেই ব্যয় বেড়ে প্রায় ১ লাখ ৩৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২৬ হাজার ১৮১ কোটি টাকা, যা মূল ব্যয়ের তুলনায় ২৩ শতাংশের বেশি।রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে রাশিয়ার ‘ভিভিইআর-১২০০’ মডেলের তৃতীয় প্রজন্মের দুটি রিয়্যাক্টর স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১,২০০ মেগাওয়াট, যা মিলিয়ে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২,৪০০ মেগাওয়াট। রিয়্যাক্টরগুলো আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান পূরণে সক্ষম বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থা ‘রোসাটম’। সূত্র: বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
