হাম এখনো নিয়ন্ত্রণহীন
হামে আক্রান্ত বা হামের উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিন শিশুদের মৃত্যু হচ্ছে। প্রতিদিনই মায়েদের বুক খালি হচ্ছে। অন্যদিকে সংক্রমণ এখনো অনিয়ন্ত্রিত। হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা কমার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। সামনে ঈদ। এ সময় পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এই অবস্থায় সংক্রমণের রাশ টেনে ধরাই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে গতকাল কালের কণ্ঠ জানিয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় আরো ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৪৫১। একই সময়ে নতুন করে হাম শনাক্ত হয়েছে ১১১ শিশুর এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আনা হয়েছে এক হাজার ১৯২ শিশুকে; এক হাজার ১৬ জনকে ভর্তি করা হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে মোট রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৫ হাজার ৬১১, যা গত আড়াই দশকে শুধু সর্বোচ্চই নয়, এই সময়ের মধ্যে কখনোই এর অর্ধেক সংক্রমণের ইতিহাসও নেই। বড় শঙ্কার কথা হলো, এখনো সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ধারাবাহিক টিকা কর্মসূচির মাধ্যমে সারা দেশে হাম প্রায় নির্মূল হয়েছিল। দেশবাসী হামের কথা প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। কিন্তু এ বছর সংক্রমণ প্রায় মহামারি পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা গেছে, এক দম্পতি বিয়ের ১১ বছর পর সন্তান লাভ করেছেন, সেই বুকের ধন কেড়ে নিয়েছে হাম। গতকাল আরেক খবরে বলা হয়, এক দম্পতির দুই ছেলে। দুই ছেলেই হামে আক্রান্ত। দুই ছেলে দুই হাসপাতালে ভর্তি। এক ছেলে আইসিইউতে। এমন করুণ পরিস্থিতি অনেকের। বিষয়টি অনেকটা স্পষ্ট, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে টিকা অব্যবস্থাপনার কারণেই আজকের এই ভয়াবহ পরিণতি। সচেতন নাগরিক সমাজ এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারসহ ১০ দফা দাবি জানানো হয়েছে। আমরাও মনে করি, দায়ী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার টিকা কর্মসূচি ছাড়া বিশেষ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না। আমরা মনে করি, জরুরি এই পরিস্থিতিতে সরকারকে আরো কার্যকর ও সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। চিকিৎসা খাতে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। করণীয় সম্পর্কে জনসাধারণের কাছে স্পষ্ট ও সঠিক বার্তা পৌঁছে দিতে হবে।
