যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব চাই
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই দিনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চীন সফর গতকাল শেষ হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) তার এই সফর শুরু হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দুই মেয়াদে এটি তার দ্বিতীয় চীন সফর। ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর ২০১৭ সালে তিনি চীন সফর করেছিলেন। দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়ে তিনি এই সফর করেছেন। বৃহস্পতিবার সকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প বেইজিংয়ের গ্রেট হলে পৌঁছালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং তাকে স্বাগত জানান। এ সময় ট্রাম্পকে গার্ড অফ অনার দেয়া হয়। বৈঠকে যোগ দেয়ার আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে শি জিন পিং বলেন, চীন-যুক্তরাষ্ট্রর স্থিতিশীল সম্পর্ক পুরো বিশ্বের জন্য ইতিবাচক। যখন আমরা সহযোগিতা করি, তখন উভয় পক্ষই লাভবান হই। যখন মুখোমুখি অবস্থান নিই, তখন উভয় পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হই। শি জিন পিংকে উদ্দেশ্য করে ডোনান্ড ট্রাম্প বলেন, আপনি একজন মহান নেতা। মাঝেমধ্যে মানুষ আমার মুখে এ কথা শুনতে পছন্দ করে না। তারপরও আমি বলি। বেইজিংয়ের গ্রেট হলে ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের সাথে প্রায় দুই ঘন্টা দ্বিপক্ষীয় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিশ্বের এই দুই শীর্ষ নেতা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইরানযুদ্ধসহ নানা আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশ্বের এই দুই পরাশক্তির মধ্যে এমন সময় বৈঠক হয়েছে, যখন ইরানযুদ্ধের কারণে বিশ্ব টালমাটাল অবস্থায় রয়েছে। তাদের এই সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক নিঃসন্দেহে বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। এ বছরের সেপ্টম্বরের দিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিংয়ের যুক্তরাষ্ট্র সফর করার কথা রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম দুই প্রধান পরাশক্তির শীর্ষ নেতাদের পারস্পরিক সফর বিনিময় ও সৌহার্দ্য বিশ্বশান্তির বার্তাবহন করে। বিশ্ববাসীর একান্ত প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার বৈঠক যুদ্ধমুক্ত বিশ্ব গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এদিকে, রুশ সংবাদমাধ্যম ইঙ্গিত দিয়েছে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এ মাসে কিংবা এ বছরের শেষ দিকে চীন সফর করতে পারেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরের মধ্যেই পুতিনের এই সফরের ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে। পুতিনের সফরের অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে, চীন ও রাশিয়ার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করা। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় পরাশক্তিগুলো যখন এক হয়, তখন তা বিশ্বের জন্য কল্যাণকর হয়ে উঠে। বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের যে অর্থনৈতিক শক্তি, তার মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। এতে উভয় দেশ যেমন অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিকভাবে উপকৃত হবে, তেমনি বিশ্বের অপরাপর দেশগুলোই উপকৃত হবে। উভয়ক্ষেত্রে অর্থনৈতিক শক্তিতে ভারসাম্য তৈরি হবে। বিশ্বশান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে পরাশক্তিগুলোর দায়িত্বের পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তির দেশগুলোরও ভূমিকা রাখা জরুরি। উপমহাদেশে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার পারস্পরিক দ্বন্দ্ব ও সংঘাত অনেকটা নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কখনো কখনো তা যুদ্ধ ও আগ্রাসী রূপ লাভ করে। এতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলে, যা কাম্য নয়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির জন্য উপমহাদেশের দেশগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা উচিৎ। এক্ষেত্রে, সার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সার্ককে কার্যকর ও গতিশীল করলে, তা বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। আমরা আশা করি, এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি জিন পিং ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। সাথে প্রেসিডেন্ট পুতিন সংযুক্ত হলে যুদ্ধমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ বিশ্ব প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হবে না।
