ওমানে ৪ বাংলাদেশির রহস্যজনক মৃত্যুর কারণ উদঘাটন নেপথ্যে যে বিষাক্ত গ্যাস

ওমানের আল-মাসনাহ এলাকায় একটি গাড়ির ভেতর থেকে চার বাংলাদেশি প্রবাসীর মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে ওমান পুলিশ। রয়্যাল ওমান পুলিশের (আরওপি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এটি কোনো হত্যাকাণ্ড বা দুর্ঘটনাজনিত আঘাত নয়, বরং গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় ভেতরে উৎপন্ন বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস শ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।

দক্ষিণ আল বাতিনাহ গভর্ন্যান্স পুলিশ প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শেষে জানায়, মৃত ব্যক্তিরা সবাই এশীয় নাগরিক। গাড়িটি দীর্ঘক্ষণ চালু অবস্থায় থাকার কারণে এর এক্সহস্ট পাইপ (নিষ্কাশন নল) থেকে নির্গত বিষাক্ত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস গাড়ির ভেতরে ছড়িয়ে পড়ে। আবদ্ধ গাড়িতে সেই বিষাক্ত গ্যাস নিঃশ্বাসের সাথে গ্রহণ করায় চারজনেই একে একে অচেতন হয়ে পড়েন এবং শেষ পর্যন্ত শ্বাসরোধ হয়ে মারা যান।

এদিকে, ওমানের চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরী এই মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, মৃত চার প্রবাসীই বাংলাদেশি এবং তারা সবাই চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া থানা এলাকার বাসিন্দা। আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, তারা সবাই ওমানে কঠোর পরিশ্রম করে জীবিকা নির্বাহ করতেন এবং একে অপরের আপন ভাই। মৃতদের বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে।

জানা গেছে, প্রবাস জীবনে তারা ওমানের ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় থাকতেন। একজন থাকতেন নিজওয়াতে, একজন সুওয়াইকে এবং বাকি দুজন মুলাদাহ এলাকায় বসবাস করতেন। ঘটনার দিন তারা চার ভাই মিলে কেনাকাটা করার উদ্দেশ্যে একটি গাড়ি নিয়ে বের হয়েছিলেন। কিন্তু রাতে দীর্ঘক্ষণ পার হয়ে গেলেও তারা ঘরে না ফেরায় খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। পরে গত মঙ্গলবার রাতে একটি সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা গাড়ি থেকে তাদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়।

ইয়াসিন চৌধুরী টাইমস অব ওমানকে বলেন, “ঘটনার দিন এই চার ভাই মিলে কেনাকাটা করার জন্য একটি গাড়ি নিয়ে একসাথে বাইরে গিয়েছিলেন। পরে গাড়ির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।” পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃত ভাইদের মধ্যে দুই ভাইয়ের আগামী শুক্রবারই বাংলাদেশে ফেরার কথা ছিল। দীর্ঘ প্রবাস জীবনের ক্লান্তি শেষে পরিবারের কাছে ফেরার সব প্রস্তুতিও তারা সম্পন্ন করেছিলেন। প্রিয়জনদের জন্য কেনাকাটা করতে গিয়েই যে তারা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না—এমন নির্মম বাস্তবতা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না তাদের পরিবার ও ওমান প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর রয়্যাল ওমান পুলিশ সর্বসাধারণের সুরক্ষায় একটি জরুরি সতর্কতা জারি করেছে। সবাইকে সতর্ক করে পুলিশ জানিয়েছে যে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় ভেতরে ঘুমানো বা কোনো আবদ্ধ জায়গায় গাড়ি চালু রাখা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এর ফলে উৎপন্ন বিষাক্ত গ্যাস শরীরে প্রবেশ করে শ্বাসরোধের মতো মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। উল্লেখ্য, কার্বন মনোক্সাইড একটি গন্ধহীন এবং বর্ণহীন গ্যাস, যা নিঃশ্বাসের সাথে শরীরে প্রবেশ করলে মানুষ টের পাওয়ার আগেই অচেতন হয়ে পড়ে। ফলে একে “নীরব ঘাতক” বলা হয়। সামান্য অসচেতনতাই ওমানে এই চার তরুণের তাজা প্রাণ কেড়ে নিল, যা প্রবাসী কমিউনিটিতে শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে। সূত্রঃ টাইমস অব ওমান

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট