দুর্গাপুরে ভাঙা টিনের ঘরে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান!
দুর্গাপুর প্রতিনিধি
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বাগোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চরম ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। একটি অফিস কক্ষ ও একটি মাত্র শ্রেণিকক্ষে ১২৪ জন প্রাথমিকের শিক্ষার্থীকে গাদাগাদি করে পাঠদান করানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ের পাশে থাকা একটি পরিত্যক্ত ও ভাঙাচোরা টিনের ঘরেও চলছে ক্লাস।
সরেজমিনে গতকাল মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের টিনশেড ঘরটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। টিনের চাল ও দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। কিছুদিন আগে পাশের একটি বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছের ডাল ভেঙে ঘরটির ওপর পড়ে আরও ক্ষতি করেছে।
সামান্য বৃষ্টিতেই শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। ময়লা ও জরাজীর্ণ পরিবেশে আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।
জানা গেছে, বাগোলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ২০০৫-০৬ অর্থবছরে এলজিইডির বাস্তবায়নে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। তার পাশেই শিক্ষার্থীদেন জন্য একটি টিনের ঘর নির্মান করা হয়। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনটি এখন অনেকটাই জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে।
বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আলফা বেগম বলেন, “প্রতিদিন ভয়-আতঙ্ক নিয়ে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে হয়। কখন কী দুর্ঘটনা ঘটে সেই দুশ্চিন্তায় থাকি। দ্রুত সমস্যার সমাধান চাই।”
স্থানীয় বাসিন্দা কালাম বলেন, “একটি ভাঙা টিনের ঘরে গাদাগাদি করে শিশুদের ক্লাস করতে হচ্ছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও বিদ্যালয় সংস্কারের দাবি জানাই।”
বাগোলপাড়া স্কুল মোড়ের চা বিক্রেতা ইকবাল হোসেন বলেন, “প্রায় এক যুগের বেশি সময় ধরে এই ভাঙা টিনের ঘরে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে বাচ্চারা ক্লাস করছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ প্রয়োজন। বিদ্যালয়ে কোনো সীমানা প্রাচীরও নেই।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, “বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় অনেক অভিভাবক ভর্তি-ইচ্ছুক সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে ভর্তি করাচ্ছেন।”
বিদ্যালয়ের সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মুকবুল হোসেন মন্টু তালুকদার বলেন, “প্রায় দুই যুগ ধরে বিদ্যালয়টি পূরানো দুইকক্ষ বিশিষ্ট একটি ভবন ও পাশেই ভাঙাচোরা টিনশেড ও জরাজীর্ণ রুমে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। আমরা বিষয়টি নিয়ে অনেকবার বলেও কোন সমাধান হয়নি ।”
এ বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, “বিদ্যালয়টি আমরা পরিদর্শন করেছি। বিষয়টি নিয়ে আমাদেরও খারাপ লাগে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হয়েছে। একটি বরাদ্দ এসেছে। দ্রুত ভাঙা ঘর সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে বিষয়টি নিয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা-এর সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
