রাজশাহীতে ডিজেল ও পানির জন্য হাহাকার ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ-ডিজেল ঘাটতিতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ
|

রাজশাহীতে ডিজেল ও পানির জন্য হাহাকার ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা, বিদ্যুৎ-ডিজেল ঘাটতিতে কৃষকের কপালে চিন্তার ভাঁজ

তীব্র তাপপ্রবাহ, লোডশেডিং আর ডিজেল সঙ্কটের ত্রিমুখী যাঁতাকলে পিষ্ট হচ্ছে রাজশাহী বিভাগের আট জেলার পৌনে চার কোটি মানুষ। বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্নে যখন কৃষকেরা বুক বেঁধেছেন, ঠিক তখনই মরুর লু হাওয়ার মতো তপ্ত আবহাওয়া আর নিরবচ্ছিন্ন সেচের অভাবে ফসলের মাঠ শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। শুধু বোরো নয়, আম, লিচু ও কাঁঠাল চাষিরাও ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গতকাল এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৭ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। জ্যেষ্ঠ আবহাওয়া পর্যবেক্ষকদের মতে, সহসা বৃষ্টির দেখা না মিললে তাপমাত্রা আরও বাড়বে। এই বৈরী আবহাওয়া কৃষি উৎপাদনের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

বগুড়া ডেইরি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নুরুল হুদা তিলক জানান, ডেইরি, ফিশিং ও পোল্ট্রি খাতের আধুনিক প্রজেক্টগুলো পুরোপুরি বিদ্যুৎ-নির্ভর। কিন্তু এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে দুই ঘণ্টা থাকছে না। ফলে এসব প্রকল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ছে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) দাবি, চাহিদার তুলনায় উৎপাদন প্রায় কাছাকাছি থাকলেও জ্বালানি সঙ্কটের কারণে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাচ্ছে না।

তীব্র গরমে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন নির্মাণশ্রমিক, রিকশা ও ভ্যানচালকেরা। দিনের বেলা প্রচ- রোদে রাস্তায় বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় তাদের রোজগার অর্ধেকের নিচে নেমে এসেছে। নির্মাণশ্রমিকেরা জানান, রোদে কাজ করলে শরীর পুড়ে যাচ্ছে, ফলে বাধ্য হয়ে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে।

শীর্ষ কৃষি বিজ্ঞানী জুলফিকার হায়দার প্রধান বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে উন্নয়ন প্রকল্পের নামে বৃক্ষনিধন, জলাধার ভরাট ও ভূগর্ভস্থ পানির বেহিসাবি উত্তোলনের ফলেই আজকের এই পরিবেশ বিপর্যয়। অন্যদিকে, নদী অববাহিকার উপজেলাগুলোতে হিমালয়ের বরফগলা পানি ও বৃষ্টির ঢলে বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই নিচু এলাকার ধান দ্রুত কাটার পরামর্শ দিচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন।

সরকার আগামী ৩ মে থেকে ৩৫ টাকা কেজি দরে ধান এবং ৪৯ টাকা কেজি দরে চাল কেনার ঘোষণা দিলেও প্রান্তিক কৃষকেরা শঙ্কিত। তাদের দাবি, সরকারি সংগ্রহ অভিযান যেন মধ্যস্বত্বভোগী ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকে। পাশাপাশি মিলমালিক সিন্ডিকেট যেন বাজারের দর পতন ঘটাতে না পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।

বাসদ বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম পল্টু বলেন, উত্তরাঞ্চলের এই প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐক্যমত্য জরুরি। ফারাক্কা ও তিস্তা ইস্যুর স্থায়ী সমাধান ছাড়া এই অঞ্চলের চার কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা করা অসম্ভব। এসব সঙ্কটের বিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও মাঠপর্যায়ে সেচ ও বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

Similar Posts