পদ্মা-যমুনায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মৌসুমী জেলেরা কঠোর অভিযানেও থামছেনা মা ইলিশ শিকার

মানিকগঞ্জের শিবালয়ের পদ্মা-যমুনায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মৌওসুমি জেলেরা। কোন কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ শিকার। মৎস্য দপ্তরসহ প্রশাসনের কঠোর অভিযানের মধ্যেও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে নির্বিচারে মা-ইলিশ শিকার করছে অসাধু মৌওসুমি জেলেরা। ফলে মা-ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ আশানুরূপ ফলপ্রসু না হওয়ার আশংকা করছেন হচ্ছে না স্থানীয়রা। মানিকগঞ্জ জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবার গত ৮ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত পদ্মা-যমুনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে এবং নদীর তীরবর্তি এলাকায় মোট ১২২ অভিযান করে ১০ টি মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২৮ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দেওয়া হয়েছে এবং এতে ১১৪.৯৭৭ লক্ষ মিটার জাল আগুণে পুড়িয়ে ধ্বংশ ও ২.৪৮ মেট্রিকটন ইলিশ জব্দ করে বিভিন্ন এতিমখানা ও মাদ্রায় বিতরণ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযানের তথ্য আগেই ফাস হয়ে যাচ্ছে মৎস্য চোরাশিকারীদের নিয়োগকৃত লোকবল দ্বারা। যার ফলে জাতীয় মাছ ইলিশের প্রধান প্রজনন মওসুমে সরকারীভাবে মা’ ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হলেও তা উপেক্ষা করে মানিকগঞ্জের শিবালয়-হরিরামপুর ও দৌলতপুরে পদ্মা-যমুনা অংশে ইলিশ নিধন ও বিক্রির মহোৎসব চলছে। চরাঞ্চল ও এলাকার কিছু সৌখিন ও মৌওসুমী চোরা মৎস্য শিকারীদের অপতৎপরতা এতটাই বেপরোয়া যে, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কঠোর অভিযানেও কোন ভাবেই থামনো যাচ্ছে না মা ইলিশ নিধন। এছাড়াও স্থানিয় কিছু সোর্সের কারণে মৎস্য শিকারীরা আগেই খবর পেয়ে যাচ্ছেন বিশেষ অভিযানের। এই সুযোগে মৎস্য শিকারী ও ক্রেতা-বিক্রেতারা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

মানিকগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলার শিবালয়, দৌলতপুর ও হরিরামপুর উপজেলার প্রায় ৬০ কিলোমিটার বিস্তৃত পদ্মা-যমুনায় প্রত্যহ বিপুল সংখ্যক ইঞ্জিনচালিত নৌকাযোগে দিনে ও রাতে অবৈধ কারেন্ট জালের মাধ্যমে নির্বিঘ্নে ইলিশ শিকারের উৎসব চলছে। শিবালয়ের আলোকদিয়া চরে ১ কেজি সাইজের প্রতি কেজি ১৮শ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। শিবালয় উপজেলার তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া, জাফরগঞ্জ, সাতুরিয়া এলাকায় ভোরে ও সন্ধ্যায় ইলিশের হাট বসে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আলোকদিয়া এলাকার মিজানুর রহমান বলেন, প্রশাসনের কঠোর অভিযানের মধ্যেও মৌওসুমী জেলেরা সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যে হারে মা ইলিশ শিকার করছে তাতে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান তেমন ফলদায়ক হবেনা। জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষায় আমদের সকলেরই সচেতন হওয়া দরাকার। এ সময়ে আমরা যেন কেই মা ইলিশ না ধরি। যমুনা নদী সিকস্তি শিবালয়ের তেওতার আলোকদিয়া গ্রামের চান মিয়া বলেন, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে নদীতে একদিকে চলছে ইলিশ নিধন অপরদিকে চলছে প্রশাসনের কঠোর অভিযান। অভিযানে জাল-নৌকা জব্দ করা হলেও থামানো যাচ্ছে না এসব অসাধু জেলেদেরকে। এরা একাধিক জাল তৈরী করে রেখেছে। যে কারণে একটি বিনস্ট হলে অপটি দিয়ে মাছ ধরে। বিকল্প জাল-নৌকা এরা রেডি রাখে।

এ ব্যাপারে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শেখ মনিরুল ইসলাম মানির বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৬ বাস্তবায়নের আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তারপরও চরাঞ্চলের কিছু অসাধু জেলে আছে, তারা কোন কিছুই মানতে চায়না। কঠোর অভিযানের মধ্যেও তারা মাছ চুরি করে মাছ ধরার জন্য নদীতে নামছে।তবে মা ইলিশ সংরক্ষণের ব্যাপারে প্রশাসন, জেলা, উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও নৌ-পুলিশ ও কোস্টগার্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই কঠোর অবস্থানে আছে। মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যহত থাকবে বলে তিনি জানান। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট