অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সমাল দিতে না পারলে সরকারের সামনে ভয়াবহ বিপদ
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি দিনদিন ভয়াবহ সংকটের দিকে যাচ্ছে। বিনিয়োগ খরা, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে স্থবিরতা, বেকারত্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের বদলে কর্মজীবী বেকার হওয়া, মানুষের আয় কমে যাওয়া, জিনিসপত্রের ঊর্ধ্বগতি থেকে অর্থনীতিতে কোনো সুখবর নেই। অর্থনীতির প্রতিটি সূচক নিম্নগামী। এর মধ্যে চাঁদাবাজি, অবৈধ দখলদারিত্বসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। সাধারণ মানুষ ধীরে ধীরে ক্ষুব্ধ-বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে। তার নমুনা এখন দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখা যাচ্ছে। গতকাল ইংরেজি দৈনিক নিউ এজের এক প্রতিবেদনে শ্রমিক, ব্যবসায়ী, কৃষক জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি, চাঁদাবাজি, সারসংকট নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করার চিত্র তুলে ধরেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত বুধবার উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সের সামনে ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কে প্রায় এক হাজার গার্মেন্ট শ্রমিক বেতন বৃদ্ধির দাবিতে অবরোধ করে। গ্যারেজ ভাড়া বৃদ্ধির প্রতিবাদে সাভারে ব্যাটারিচালিত রিকশাওয়ালারা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ করে। ময়মনসিংহে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে মিছিল করে। অন্যদিকে, সারসংকটের কারণে নওগাঁওয়ে শতাধিক কৃষক রাজশাহী-নওগাঁও হাইওয়ে অবরোধ করে। বিভিন্ন শ্রেণীর এসব আন্দোলনকারিদের ক্ষোভ-বিক্ষোভের কারণ প্রায় একই। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতিতে তাদের জীবনযাপন অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। সংসার চালাতে গিয়ে তাদের নাভিশ্বাস উঠেছে। বাধ্য হয়েই তারা আন্দোলনে নেমেছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, মানুষের পিঠ যখন দেয়ালে ঠেকে যায়, তখন তারা বাধ্য হয়েই আন্দোলনে নামে। এই আন্দোলন সরকারের জন্য অশনি সংকেত। অর্থনীতিবিদদের মতে, সরকারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো। প্রবৃদ্ধি নিম্নগামী এবং মূল্যস্ফীতি ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকলে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার কঠিন হয়ে যাবে। পর্যবেক্ষকদের মতে, অর্থমন্ত্রী মুখে অনেক ভালো ভালো কথা বলেন। তবে বাস্তবে অর্থনীতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমাতে পারছেন না। তাহলে, তিনি কী করছেন, এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে অর্থমন্ত্রীর ভূমিকা বলতে কিছু নেই। তা নাহলে, সাধারণ মানুষের জীবনযাপন দিন দিন কেন শোচনীয় পরিস্থিতির দিকে যাবে? বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ কেন সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করবে? তার সুন্দর কথা দিয়ে কি মানুষের পেট ভরবে? তাদের আন্দোলন থামাতে পারবে? পারবে না। অর্থমন্ত্রী চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছেন, যা সরকারের ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এ ব্যাপারে সরকারের সতর্ক ও সচেতন থাকা উচিৎ। সাধারণ মানুষের জীবনযাপন ও অভাব-অনটন দূর করতে এসওএস ভিত্তিতে পদক্ষেপ নিতে হবে। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে স্বতঃস্ফূর্ত কর্মযজ্ঞ দ্রুত শুরু করতে হবে। দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে হবে। বন্ধ শিল্পকারখানা চালু করতে সরকার যে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা করেছে, তা যাতে সহজে এবং দ্রুত মালিকরা পায়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। যেসব শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম, সেগুলো যাতে বন্ধ না হয়, সে ব্যবস্থা করতে হবে। ধীরলয়ে কিংবা করব-করছির মধ্যে থাকলে পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যাবে, তখন তা সমালা দেয়া কঠিন হয়ে পড়বে। মনে রাখা দরকার, সাধারণ মানুষকে স্বস্তিতে রাখলে, সরকারও স্বস্তিতে থাকবে।বাংলাদেশ সংবাদ
