সম্পাদকীয়

স্বস্তির পরিবেশ যেন নষ্ট না হয়স্টাফ রিপোর্টার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত মাসের শেষের দিকে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরপরই রাজধানীতে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের দখলবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটে। এসব অপকর্মের সাথে সংরক্ষিত আসনে বিএনপির একজন মহিলা এমপির সম্পৃক্ততাসহ কিছু দলীয় নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুর-১ এর রাড্ডায় মা ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে কয়েকশ’ লোকজন হামলা চালিয়ে তা গুঁড়িয়ে দিয়ে দখলের চেষ্টা করা হয়। দেশজুড়ে তোলপাড় করা এ ঘটনার সাথে উক্ত মহিলা এমপি ও তার অনুসারীদের সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসে। এই ঘটনার একদিন পর মোহাম্মদপুরের সাতমসজিদ হাউজিং এলাকায় ৩৫ কাঠার একটি জায়গায় গড়ে উঠা অফিসে শতাধিক লোক হামলা চালিয়ে ভাঙচুর চালিয়ে জায়গা দখলে নেয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায়ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠে। ইসিবি চত্ত্বরে জমির মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে যুবদল থেকে বহিস্কৃত এক নেতা এক ওষুধ ব্যবসায়ির ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) মিরপুরে অবৈধ দখলে থাকা ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপর হকাররা হামলা চালায়। পরবর্তীতে ডিএনসিসির প্রশাসক স্বয়ং উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ফুটপাত অবৈধ দখলমুক্ত করেন। পরপর সংঘটিত উল্লেখিত ঘটনায় দেশের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে প্রতিটি ঘটনার খোঁজ-খবর নিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ দেন। ইতোমধ্যে তার নির্দেশনা অনুযায়ী অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং হচ্ছে। বর্তমান সরকার জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। কাজেই, তাকে জনগণের স্বার্থে ও কল্যাণেই কাজ করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অপরাধের প্রতি জিরো টলারেন্স থাকতে হবে। দখলবাজ, চাঁদাবাজ, অপরাধী, অন্যায়কারি যে দলের বা যত প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের প্রতি ‘মার্সিলেস’ হতে হবে। সরকারকে মনে রাখতে হবে, দখলবাজ, চাঁদাবাজরা তাকে ক্ষমতায় আনেনি। সাধারণ মানুষ তাকে ক্ষমতায় এনেছে। কাজেই তাদের স্বস্তি ও শান্তি যেসব অপরাধী নষ্ট করছে, তাদেরকে কঠোরভাবে দমন করতে হবে। বলার অপেক্ষা রাখে না, সাম্প্রতিক যেসব অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে সরকার যে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে সর্বত্র সরকারের এ পদক্ষেপকে মানুষ অকুণ্ঠচিত্তে অভিনন্দন ও সাধুবাদ জানাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করছে। জনগণের এই প্রশংসা ধরে রাখতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ অপরাধীদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেছেন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, মাদক, জুয়াসহ যেকোনো ধরনের অপরাধের সাথে যারাই জড়িত থাকুক এবং তাদের দলীয় পরিচয় যাই হোক, তাদেরকে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। নবগঠিত স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জনগণের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা এবং একটি ভীতিহীন, নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা তার লক্ষ্য। জননিরাপত্তা রক্ষা এবং নিরাপদ সমাজ গঠনে অপরাধ ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে তার অবস্থান অত্যন্ত কঠোর এবং আপোসহীন। এক্ষেত্রে অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না। যেকোনো ধরনের অপরাধ ও বহুল আলোচিত চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর মনোভাব এই বার্তা জনমনে স্বস্তি ও নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি করবে। ইতোমধ্যে মানুষের মধ্যে তা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আমরা আশা করি, জননিরাপত্তা ও স্বস্তির এই পরিবেশ রক্ষায় সরকার কঠোরতর অবস্থানে থাকবে। এই পরিবেশ যাতে কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয়।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট