অনিশ্চয়তার দিন শেষ এমপি ধলুর উদ্যোগে ঘর পেলেন দুই অসহায় পরিবার

নওগাঁ প্রতিনিধি

দীর্ঘদিনের হাহাকার আর অনিশ্চয়তা পেছনে ফেলে অবশেষে স্থায়ী ঠিকানার দেখা পেলেন নওগাঁ সদর উপজেলার দুই অসহায় ও গৃহহীন মানুষ। নিজের একান্ত অর্থায়নে পাকা বাড়ি নির্মাণ করে দিয়ে তাদের মুখে অমলিন হাসি ফুটালেন নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। গতকাল সোমবার দুপুরে এক আবেগঘন পরিবেশে আনুষ্ঠানিকভাবে এই নবনির্মিত বাড়িগুলো উপকারভোগীদের হাতে হস্তান্তর করা হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নওগাঁ সদর উপজেলার হাঁসাইগাড়ি ভুতুলিয়া হামরাপাড়ার বাসিন্দা মুনছুর আলী পেশায় রাজমিস্ত্রী ছিলেন। তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর পর থেকেই চরম দুর্দশায় দিন কাটাচ্ছিলেন স্ত্রী শিরিনা বেগম ও দুই সন্তান। এর ওপর অন্ধ শ্বশুরের দেখাশোনার বাড়তি দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে চার সদস্যের এই পরিবারটির জীবন হয়ে উঠেছিল মারাত্মক সংকটাপন্ন।

অন্যদিকে, দুবলহাটি ইউনিয়নের ভবানীনগর গ্রামের মৃত আলী জানের ছেলে আবদুল আজিজ পেশায় একজন সাধারণ ভ্যানচালক। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে জরাজীর্ণ একটি ঘরে দীর্ঘদিন ধরে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন তিনি। সামান্য ঝড়-বৃষ্টিতেই পরিবারের সবাইকে নিয়ে নির্ঘুম রাত কাটাতে হতো তাঁদের। অভাবের তাড়নায় জীবনের প্রতিটি দিনই ছিল তাঁর কাছে এক একটি অগ্নিপরীক্ষা। অসহায় এই পরিবার দুটির কষ্টের কথা জানতে পেরে নিজ উদ্যোগে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাযুক্ত পাকা ঘর নির্মাণ করে দেন সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু। নতুন পাকা ঘর হাতে পেয়ে আনন্দ আর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগীরা।

উপকারভোগী শিরিনা বেগম বলেন, ‘স্বামী হারানোর পর দুই সন্তান আর অন্ধ শ্বশুরকে নিয়ে চরম কষ্টের মধ্যে দিন কাটছিল। ঝড়-বৃষ্টির ভয়ে শুধু চোখের জল ফেলা ছাড়া উপায় ছিল না। এমপি স্যার আমাদের পাকা ঘর বানিয়ে দিয়ে নতুন জীবন দিয়েছেন। জীবনে কোনো দিন ভাবিনি পাকা ঘরে ঘুমাতে পারব।’ আবদুল আজিজ সরদার বলেন, ‘সারাদিন ভ্যান চালিয়ে যা আয় হয়, তাতে জরাজীর্ণ চালে রাত কাটানো নিয়ে সবসময় ভয়ে থাকতাম। এমপি সাহেব নিজের টাকায় ঘর বানিয়ে দেওয়ায় বুকের ওপর থেকে পাহাড়ের বোঝা নেমে গেছে। আমরা অনেক খুশি।’

বাড়ি হস্তান্তরকালে সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু বলেন, ‘একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানো। ক্ষমতা বা পদবি বড় কথা নয়; মানুষের ভালোবাসা এবং তাদের কল্যাণে কিছু করতে পারার মাঝেই আসল সার্থকতা। এটি কোনো সরকারি প্রজেক্ট নয়, ছিল আমার একান্ত দায়বদ্ধতা থেকে নেওয়া একটি ছোট উদ্যোগ। শিরিনা বেগম ও আবদুল আজিজ সরদারের হাতে পাকা বাড়ির চাবি তুলে দিতে পেরে আমি আনন্দিত। তারা কেবল একটি ঘরই পেলেন না, পেলেন নতুনভাবে বাঁচার আত্মবিশ্বাস।’

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট