প্রতিহিংসার কারণে ইহুদিরা নবীদের সাথে শত্রুতায় লিপ্ত হয়েছে                       

মোহাম্মাদ মাকছুদ উল্লাহ

ইসলামের ইতিহাস ও পবিত্র কুরআন ও হাদীসের বিবরণ অনুযায়ী যুগে যুগে বনি ইসরাঈল (যাদেরকে পরবর্তী সময়ে ইহুদি বলা হয়) বিভিন্ন নবী-রাসূলদের সাথে শত্রুতা ও ধৃষ্টতাপূর্ণূ আচরণ করেছে। বিশেষ করে মহানবী হযরত মোহাম্মাদ (সা.)-এর সাথে মদীনার ইহুদি গোত্রগুলোর বিশ্বাস ঘাতকতা ও শত্রুতার বিষয়টি সর্বজন বিদিত। অথচ তারা জানত যে, হযরত মোহাম্মাদ (সা.)-ই শেষ নবী ও শ্রেষ্ট নবী। কারণ তাদের নিকটে থাকা আসমানী কিতাবে বিষয়টি উল্লেখ ছিল। কুরআনিক তথ্য অনুযায়ী মহান আল্লাহ মানব জাতির হেদায়েতের জন্য বনি ইসরাঈলে সব থেকে বেশি নবি ও রাসূল প্রেরণ করেছেন। কিন্তু তারা অধিকাংশ নবীর বিরুদ্ধাচারণ করেছে এবং কোন কোন নবীকে হত্যার ষঢ়যন্ত্র করেছে, কাউকে কাউকে হত্যাও করেছে। এ বিষয়টি ঐতিহাসিক ভাবে প্রমানিত যে, ইহুদি একটি অভিশপ্ত জাতি। যার প্রমান আজকের ইসরাইলের ইহদি গোষ্ঠি। আজ তারা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয় বরং সমগ্র পৃথিবীকে মারাত্মক এক অনাকাঙ্খিত পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

অতীতে নবীদের সাথে ইহুদিদের আচরণঃ হযরত মুসা (আ.) ছিলেন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একজন নবী ও রাসূল। তাঁর উপর আসমানি কিতাব “তাওরাত” নাযিল হয়েছিল। তিনি যুগ যুগ ধরে ফিরাউনের নির্যাতনের যাতাকলে পিষ্ঠ হতে থাকা বনি ইসরাঈকে মুক্ত করেছিলেন। তাদের জন্য স্বাধীন ভূখন্ডের ব্যবস্থা করেছিলেন। হযরত মুসার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ বনি ইসরাঈলের জন্য আসমান থেকে “মান্না-সালওয়া” নামক বিশেষ খাবারের বন্দোবস্ত করেছিলেন। অথচ বনি ইসরাঈল হযরত মুসার (আ.)-এর সাথে চরম শত্রুতা মূলক আচরণ করেছে। যার বিবরণ পবিত্র কুরআনে স্ববিস্তারে দেয়া হয়েছে। এরশাদ হয়েছে,“হে মুসা! তারা যতদিন সেখানে থাকবে, ততদিন আমরা সেখানে কখনো প্রবেশ করব না। সুতরাং তুমি আর তোমার রব যাও এবং যুদ্ধ করো; আমরা এখানেই বসে রইলাম।(সূরা আল-মাইদাহ: ২৪) ইহুদিরা অনেক নবীকে হত্যা করেছে, এবিষয়ে পবিত্র কুরআনের বিবরণ ,“আরা তারা অণ্যায়ভাবে নবীদেরকে হত্যা করত। এটা এ জন্য যে, তারা অবাধ্য হয়েছিল এবং সীমালঙ্ঘন করেছিল।”(সূরা আল—বাক্বারাহ: ৬১) আরো এরশাদ হয়েছে,“নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহ অস্বীকার করে এবং নবীদেরকে অন্যায়ভাবে হত্যা করে এবং মানুষের মধ্যে যারা হকের নির্দেশ দেয় তাদেরকে হত্যা করে, তাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির সংবাদ দিন।”(সূরা আলে-ইমরান: ২১) বনি ইসরাঈল যে প্রদিহিংসার কারণেই নবীদেরকে হত্যা করত এবং তাঁদের বিরুদ্ধাচারণ করত এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনের স্পষ্ট বিবৃতি হলো,“যখনই কোন রাসূল তাদের নিকট এমন কোন বিষয় নিয়ে এসেছে যা তাদের মনঃপুত ছিল না, তখন তারা তাঁদের একদলকে মিথ্যাবাদী বলেছে আর এ্কদলকে হত্যা করেছে।(সূরা আল-মাইদাহ: ৭০)

প্রতিহিংসা মানুষের জন্য ক্ষতি ছাড়া কোন কল্যানই বয়ে আনতে পারে না। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক হাদীসে বলেছেন,“শক্তিশালী সে নয় যে কুস্তিতে অন্যকে হারায়; বরং শক্তিশালী সে যে, রাগের সময় নিজেকে সংযত রাখে।”(সহীহ আল-বোখারী: ৬১১৪, সহীহ মুসলিম: ২৬০৯) সুতরাং প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে, শত্রুতা, প্রতিশোধ পরায়নতা আর জুলুমবাজি করে নিজের ইহকাল ও পরকালের ধ্বংস ডেকে না এনে ক্ষমা, উদারতা, ধৈর্য্য আর মহানুভবতায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠুক সকল মুমিনের হৃদয়, অনাবিল শান্তিতে ভরে উঠুক সামাজিক পরিমন্ডল! লেখক: পেশ ইমাম ও খতীব, রাজশাহী কলেজ কেন্দ্রীয় মসজিদ।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট