দুর্গাপুরে শ্রেণিকক্ষে কোচিং-বাণিজ্যের অভিযোগ

দুর্গাপুর প্রতিনিধি

শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড। আর সেই শিক্ষাকে কেন্দ্র করে কোনো শিক্ষক যখন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন, তখন প্রশ্ন ওঠে শিক্ষকতার পেশাদারিত্ব ও শিক্ষার্থীদের ভবিষৎ নিয়ে। রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমানসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার করে কোচিং ও প্রাইভেট বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান এবং সহকারী শিক্ষক ফায়সাল আহমেদ আকাশ, ফারুক আহমেদ ও মেহেদী হাসান বিদ্যালয়ে চাকরির সুবাদে শিক্ষার্থীদের কোচিং ও প্রাইভেট পড়তে উৎসাহিত করছেন। এমনকি কোচিংয়ে ভর্তি ও প্রাইভেট পড়ানোর বিষয়ে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের কাছে চিঠি দেওয়ারও অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

অভিভাবক ও স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বিদ্যালয়ের নামে থাকা জমি ও দোকান থেকে প্রাপ্ত অর্থেরও সঠিক হিসাব নেই। এ অর্থ থেকে প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো নথিপত্র বা নিরপেক্ষ যাচাইয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি। গতকাল মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফায়সাল আহমেদ আকাশের বিরুদ্ধে কোচিং-বাণিজ্যের অভিযোগের কথা জানা যায়।

স্থানীয় কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের অভিযোগ, ফায়সাল আহমেদের কাছে কোচিং না করলে বিদ্যালয়ের অনুশীলনী পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে বলেন, তার তুলনায় পড়াশোনায় পিছিয়ে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী ফায়সাল স্যারের কাছে কোচিং করার কারণে বেশি নম্বর পায়। বিষয়টি নিয়ে সে শিক্ষকের কাছে অভিযোগও করেছে বলে জানায়।

বুলবুল আহমেদ নামে এক অভিভাবক বলেন, তার ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তানকে কোচিংয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, “শিক্ষকদের কাছে পড়তে না চাইলে সন্তানকে নিয়ে এক ধরনের চাপের মধ্যে থাকতে হয়।”

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষক ফায়সাল আহমেদ আকাশ বিদ্যালয়ে কিছুদিন প্রাইভেট পড়ানোর কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, “এখন থেকে বিদ্যালয়ে আর পড়ানো হবে না। অভিযোগের বিষয়ে দাওকান্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি নয়, বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য প্রাইভেট পড়ান।”

বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী অভিযুক্ত শিক্ষকদের আচরণ ও ভূমিকা নিয়েও বিরূপ মন্তব্য করেছেন। স্থানীয় অভিভাবকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পাঠদান নিশ্চিত করা এবং কোচিং-বাণিজ্যের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট