বাগমারায় অবৈধ অটোরিক্সার দখলে রাস্তাঘাট

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা

রাজশাহীর বাগমারায় রাস্তাঘাট দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ব্যাটারী চালিত অবৈধ অটোরিক্সা এবং অটোভ্যান। যত্রতত্র চলাচল ও রাস্তা-ঘাট বন্ধ করে অটোভ্যান গাড়ি পার্কিং করায় অন্য যান চলাচলে ব্যহত হচ্ছে। অনিয়ন্ত্রিত যানবাহনের বেপরোয়া গতিতে ঘটছে অহরহ দুর্ঘটনা। এতে করে বাগমারা থেকে রাজশাহী জেলা শহরের যোগাযোগ বাস চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারী পদক্ষেপ না থাকায় ব্যাটারী চালিত অবৈধ অটোরিক্সা ও অটো ভ্যানের দৌরাত্ম বেড়েই চলেছেই। সরকারী দপ্তরগুলোতে নেই কোন হিসাব। এমন কি ইউনিয়ন পরিষদগুলোর কাছেও নেই কোন এ সব অবৈধ গাড়ির তথ্য।

খোঁজ নিয়ে যানা গেছে, গত ২০২৪ সালে উপজেলায় সাড়ে পাঁচ হাজার বিদ্যুৎ ব্যবহৃত ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা এবং অটোভ্যান ছিল বলে জানিয়েছেন তৎকালীন মাদারীগঞ্জ মোহনগঞ্জ এলাকার অটোরিক্সা সমিতির সভাপতি আব্দুল মতিন। তিনি বলেন, রাজশাহীর সর্ব বৃহৎ উপজেলা বাগমারা। সেই সময় সারা উপজেলায় পাঁচটি বিদ্যুৎ ব্যবহৃত ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ছিল। ২০২৪ সালের পর থেকে সমিতি গুলো ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেছে।

বর্তমানে বাগমারা উপজেলায় দশ থেকে পনের হাজারের মত অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহৃত ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও ভ্যান গাড়ী রয়েছে। সেই গুলো বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দিতে হয়। তবে চার্জ দেয়া অটোরিক্সা গুলো পল্লী বিদ্যুৎ থেকে দেয়া হয়ে থাকে বলে নাম জানাতে অনিচ্ছুক কয়েকজন গাড়ী চালক জানিয়েছেন। কারো বাড়িতেই বানিজ্যিক কোন মিটার নেই। আবাসিক মিটার থেকেই ব্যাটারী চালিত গাড়ী গুলোতে চার্জ দেয়া হয়ে থাকে। দেশে বিদ্যুতের এমনিতেই সংকট। এর মধ্যে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ভ্যানগাড়ী গুলো আরো সমস্যার সৃষ্টি করছে।

ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও ভানগাড়ী গুলো সরকারী সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও তারা সরকারকে কোন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেয় না। তাদের কারনে গ্রামগঞ্জের অধিকাংশ কাঁচা রাস্তা গুলো চলাচলের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়ে। তাদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পড়ে রাস্তায় চলাচল করা সাধারন মানুষ। গাড়ি পারা পারে কোন সিংনাল মানে না এ অবৈধ গাড়ি। বাধিয়ে দেয় গন্ডগোল। এদিকে মানুষ বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও ভ্যানগাড়ী গুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি জোর দাবী জানিয়েছেন। তাদের অবৈধ পার্শ্ব সংযোগের কারণে এলাকায় বেশী বেশী বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ বাগমারা জোনের ডিপুটি জেনারেল ম্যানেজার প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাগমারায় বানিজ্যিক ভাবে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও ভ্যানগাড়ীগুলো চার্জ দেয়া হয় কিনা আমার জানা নেই। তবে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে গ্রাহকদের তোপের মুখে রয়েছি। বিষয়টি জানলাম, খোঁজখবর নিয়ে অবৈধভাবে ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও ভ্যানগাড়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট