সম্পাদকীয়

দূষণের কবলে নদ-নদী, সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি

নদীমাতৃক আমাদের দেশ। সারা দেশে জালের মতো ছড়িয়ে আছে ছোট-বড় নদ-নদী। পরিতাপের বিষয় হলো, বিবিধ কারণে দেশের বহু নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে। কত নদী মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে, তারও সঠিক হিসাব মেলা ভার। বিশেষ করে রাজধানীর আশপাশের নদীগুলোর অবস্থা বড়ই সংকটাপন্ন। দখল ও দূষণের কবল থেকে এসব নদীর সুরক্ষা মিলছে না। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের খাল-বিল-নদ-নদী রক্ষায় বিশেষ তৎপর হয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। নদীদূষণের কারণগুলো আমাদের অজানা নয়। শিল্প-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য, অপর্যাপ্ত পয়োনিষ্কাশন ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার জন্য শহরাঞ্চলের সব ধরনের বর্জ্যের শেষ ঠিকানা হলো নদী। নাব্যতা হ্রাসের কারণে নদীতে প্রবাহ থাকে না। ফলে দূষণ আরো স্থায়ী হয়। এ ছাড়া নদী দখল করে দোকানপাট, বাসাবাড়ি, কারখানা নির্মাণও নতুন কিছু নয়। এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নদী-খাল দূষণ রোধে পুনরায় জনসাধারণের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। গতকাল কালের কণ্ঠের খবরে বলা হয়, বুড়িগঙ্গা, তুরাগসহ রাজধানীর চারপাশের নদী-খাল-ড্রেনের দূষণ রোধ ও বর্জ্য অপসারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনে জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির জানান, গত রবিবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন এবং ঢাকা শহরের চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথ’ সংক্রান্ত পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, ধলেশ্বরী, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী এবং সংলগ্ন খাল ও ড্রেনের দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য অপসারণ, নদ-নদীর নাব্যতা ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ নিশ্চিত করা এবং ঢাকার চারপাশের বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয়। এ কথা ঠিক যে নাগরিক হিসেবেও আমরা সব সময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করি না। অনেকে চিপস বা বিস্কুট খেয়ে প্যাকেট ছুড়ে ফেলে দিই। সেগুলোই একসময় ড্রেনে গিয়ে জমা হয়। অথচ একটু সচেতন হলেই এ ধরনের দূষণ রোধ করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, ‘নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।’ এদিকে এক সাক্ষাৎকারে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নদী-খাল দখলমুক্ত করা হবে। দখলদার যত শক্তিশালীই হোক, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নদী, খাল ও জলাশয় দখলমুক্ত ও পুনরুদ্ধারের বাধা দূর করা সম্ভব। আমাদের লক্ষ্য নদীমাতৃক বাংলাদেশের পুরনো চিত্র ও পরিবেশ ফিরিয়ে আনা।’ আমরা চাই মন্ত্রীর এই আশ্বাসের যথাযথ বাস্তবায়ন। আমরা মনে করি, নদী-খাল দখলমুক্ত ও দূষণ রোধে সরকারকে সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। এ জন্য মাঠ পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সম্প্রতি বুড়িগঙ্গার তীর থেকে ১৫ দিনের মধ্যে প্লাস্টিকবর্জ্য সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট—তার বাস্তবায়ন জরুরি। কারখানার বর্জ্য ও পয়োবর্জ্য নিষ্কাশনে আধুনিক ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। সরকারের নীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন প্রতিফলিত হলে সাধারণ মানুষও দূষণ রোধে এগিয়ে আসবে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট