১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ হাসিনা-রেহানার বিরুদ্ধে মামলা
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের নামে বিভিন্ন ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিলের ১৭৬ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তবে মামলার তৃতীয় আসামির নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের শত শত কোটি টাকার লেনদেন ও সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে ট্রাস্ট ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের একাধিক ব্যাংক হিসাব আদালতের আদেশে অবরুদ্ধ করা হয়। এর আগে আদালতের আদেশে শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তির একাধিক ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছিল। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের হিসাবও ছিল।
দুদকের অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ৩১টি ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করার তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে। এসব হিসাবের সম্পদ স্থানান্তর বা বেহাতের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে আদালতে আবেদন করেছিল দুদক। ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে ট্রাস্টে অর্থ দেওয়ার বিষয়টি আগেও বিভিন্ন ব্যাংকের প্রকাশিত নথিতে দেখা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনেও বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টে ব্যাংকের করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা খাত থেকে অনুদানের তথ্য রয়েছে। এদিকে ২০২৩ সালে একটি বেসরকারি ব্যাংকের প্রকাশিত বার্ষিক প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টকে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য ২০ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার তথ্যও উল্লেখ করা হয়।
দুদকের অনুমোদনের পর এখন সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হবে। মামলায় ১৭৬ কোটি টাকা কীভাবে সংগ্রহ, স্থানান্তর বা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং এতে কারা জড়িত—তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হবে। সূত্র: ইনকিলাব
