পবার বড়গাছী ইউপির সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এবার কাজ না করে প্রায় ৭২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
পবা উপজেলার বড়গাছী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম, প্রকল্প বাস্তবায়ন না করে অর্থ উত্তোলন এবং একই কাজের নাম একাধিক প্রকল্পে দেখিয়ে কাজ না করে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের প্রায় ৭২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এবার তদন্ত চেয়ে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার, রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও দুদকে আবেদন করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ সরেজমিন তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে। এ রকম অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ করেছিলেন এলাকাবাসী। এ ব্যাপারে গত ৩ এপ্রিল দৈনিক নতুন প্রভাত পত্রিকায়, যুগান্তর ১১ এপ্রিল ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশিত হয়। এরপরেও তার ব্যাপারে কোন প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেয়ায় তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে আত্মসাত করছেন বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
পবার বড়গাছী ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বিভিন্ন প্রকল্পের নামে কাজ না করে সরকারি অর্থ ব্যয় দেখিয়েছেন। আবেদনে রাজস্ব খাত, এডিপি, উন্নয়ন তহবিল, ১ শতাংশ অর্থের প্রকল্প এবং হাটের ডাকের অর্থের বিভিন্ন প্রকল্পের তালিকা ও বরাদ্দের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। রাজস্ব খাতের আওতায় তিনটি রাস্তা সিসিকরণ প্রকল্পে ২ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে বড়গাছী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে বড়গাছী লোকমানের ডিপার কাছে, ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গোপালহাটি ছালামের বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডে বাছিপাড়া ময়নার বাড়ি থেকে শহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত রাস্তার কাজের কথা বলা হয়েছে।
এডিপির বরাদ্দের ক্ষেত্রেও তিনটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে একটি প্রকল্পে ৮ লাখ টাকা, অপর দুটিতে যথাক্রমে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ টাকা ও ২ লাখ ২৫ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ দেখানো হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব প্রকল্পের কয়েকটির কাজ বাস্তবে না করেই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, উন্নয়ন তহবিলের আওতায় তিনটি প্রকল্পে মোট প্রায় ১২ লাখ টাকা এবং ১ শতাংশ অর্থের আওতায় বিভিন্ন রাস্তা উন্নয়ন, মাটি ভরাট, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কক্ষ সংস্কার, খেলাধুলার সামগ্রী ও রিং পাইপ সরবরাহসহ ১৭টি খাতে অর্থ বরাদ্দ ও উত্তোলনের তথ্য রয়েছে। সেখানে ২৮ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত কোনো কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন না করেই ১৬ লাখ ৮৪ হাজার টাকা উত্তোলনের অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া বড়গাছী হাট থেকে প্রাপ্ত অর্থের ১০ ও ১৫ শতাংশের অংশ থেকেও ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ৯ লাখ ২৩ হাজার ৮৪০ টাকা উত্তোলন করা হলেও হাটের কোনো উন্নয়ন করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, বিভিন্ন খাতের অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৩ লাখ ৯৪ হাজার ৫৪০ টাকা। প্রকল্পগুলোর কয়েকটির বিরুদ্ধে গত ১৯ আগস্ট ডিএলজি ও পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করা হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় প্রকল্পগুলোর বাস্তব অবস্থা সরেজমিনে যাচাই, অর্থ ব্যয়ের নথিপত্র পরীক্ষা এবং অভিযোগের সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে বড়গাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি কোন অর্থ আত্মসাত করিনি। আমার ব্যাপারে এসব মিথ্যা অভিযোগ দেয়া হয়েছে।
