নেপালে বন্যা-ভূমিধসে  প্রাণহানিতে প্রেসিডেন্টের শোক

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিতের কামনা করেন তিনি। এর আগে বাংলাদেশ সরকারও নেপালের ভয়াবহ দুর্যোগে শোক প্রকাশ করে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে নেপালকে প্রয়োজনীয় যেকোনো সহায়তা দিতে ঢাকা প্রস্তুত রয়েছে।

এদিকে নেপালের সর্বশেষ সরকারি হিসাবে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে নিখোঁজ পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে ৫৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। নিখোঁজদের মধ্যে ৪৬৬ জনই বিদেশি নাগরিক। নেপাল পুলিশের সর্বশেষ তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি নেপালি।

বন্যায় রসুয়া, নুয়াকোট, ধাদিংসহ কয়েকটি জেলা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর পানি ও কাদার প্রবল স্রোতে ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু, জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ও সীমান্ত বাণিজ্য অবকাঠামো ভেসে গেছে। অন্তত ৩৫টি মোটরযান চলাচলযোগ্য সেতু, ৪৫টি ঝুলন্ত সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

প্রাথমিক স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে একটি বরফ-পাথরের ধস থেকে বিপুল পানি ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি করে। এতে কাঠমান্ডু-কেরুং বাণিজ্যপথের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুৎ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। নেপালের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের হিসাবে বন্যায় প্রায় ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশটির মোট জলবিদ্যুৎ সক্ষমতার ১২ শতাংশের বেশি। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট