বাগমারায় পান বরজে পোকার আক্রমণ, দুশ্চিন্তায় চাষীরা

স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা

রাজশাহীর বাগমারায় পান বরজে পোকার আক্রমণ প্রকট আকারে দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন ব্যান্ডের কীটনাশক স্প্রে করে চাষীরা দমন করতে পারছেন না। এক দিকে পানের ন্যায্য মূল্য নেই, অপর দিকে পোকার আক্রমণে পান চাষীরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। ফলে দীর্ঘ দিনের বহুল প্রচলিত ঐতিহ্যবাহী বাগমারার মিষ্টি পানচাষ হুমকির পথে পড়ছে।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় অর্থকারী ফসল হিসেবে বহুল প্রচলিত মিষ্টি পানবরজ। বিগত বছরে বাগমারায় ১২০০ হেক্টর জমিতে ১০৮৭২টি পান বরজ ছিল। উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি ও দাম কম, পচন ও পোকা আক্রমণে আস্তে আস্তে পান বরজের সংখ্যা কমতে শুরু করেছে। এলাকার দোঁআশ যুক্ত জমিতে পান চাষের উপযুক্ত। এক সময়ে উপজেলার স্বছল ও সৌখিন লোক বলতেই পানচাষিদের ধরে নেয়া হতো। বর্তমানে পানচাষিদের বেহাল অবস্থার সম্মখীন। পান বাজার বড়ই মন্দা তার মধ্যে দেখা দিয়েছে পানবরজে ব্যাপক পোকার আক্রমন। বালানগর গ্রামের পানচাষি অছির উদ্দিন জানান, তার দুই কান্দি পানবরজ রয়েছে। একটি বরজে চিনিপোকার আক্রমণ ব্যাপক হারে লেগেছে। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক স্প্রে করে কোন লাভ হচ্ছে না। একই ভাবে মোহম্মাদপুর গ্রামের আহসান আলী জানান, পোকার আক্রমণ ব্যাপক। মাকড়োশার মত ছোট ছোট পোকা যা এলাকায় চিনি পোকা নামে পরিচিত ওই পোকা পানে ধরলে তা ছাড়ানো বড়ই কঠিন। বার বার সিনসাইপার মেথিন গ্রুপের ওষুধ দিতে হচ্ছে। তাতেও ফল মিলছে না। এই পোকার আক্রমণ ছাড়াতে না পেরে অনেকে পানবরজ েেঙ্গ দিয়েছে। ভবানীগঞ্জ বাজারের কীটনাশকের দোকানী আশরাফ হোসেন জানান, চিনি পোকা পানবরজের ব্যাপক ক্ষতি করে। এর নিদিষ্ট কোন ওষুধ নেই। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক দিলে কিছুটা পরিত্রান মিলে।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পোকার ধরণ দেখে উপজেলা সহকারী কৃষি অফিসারদের পরামর্শের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাদের পরামর্শক্রমে পানচাষিরা ব্যবস্থা নিলে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা হবে বলে তিনি জানান।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট