পোরশায় পুনর্ভবা নদীতে অবৈধ সুতি জালের দাপটে বিপাকে মৎস্যজীবীরা
পোরশা প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে প্রবাহিত ঐতিহ্যবাহী পুনর্ভবা নদীতে অবাধে অবৈধ সুতি জাল বসিয়ে মাছ শিকারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের এমন অপতটারতার কারণে একদিকে নদীর স্বাভাবিক জীববৈচিত্র্য বিনষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মৎস্যজীবীরা। এছাড়া নদীতে বাঁশের খুঁটি ও জাল পোঁতার কারণে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) স্পিডবোট ও নৌকা টহল কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত ঘেঁষা এই নদীর পশ্চিম রঘুনাথপুর টেকঠার ঘাট থেকে পারঘাটি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি সুতি জাল বসানো হয়েছে। নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ আটকে এসব জাল বসানোর ফলে তলদেশের ছোট-বড় সব ধরনের মাছ ও রেনু-পোনা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।
নদীর ওপর নির্ভরশীল রঘুনাথপুর ও নিতপুর এলাকার সাধারণ জেলেরা জানান, নদী জুড়ে সুতি জাল বসানোর কারণে সাধারণ জাল ফেলে আর আগের মতো মাছ মিলছে না। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক জেলে জানান, প্রভাবশালীরা পুরো নদীর গতিপথ আটকে মাছ শিকার করায় তাদের জীবিকা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও তারা অভিযোগ করেন।
এদিকে, নদীর মাঝখানে সুতি জালের বাঁশ ও খুঁটি থাকায় সীমান্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিজিবির নিয়মিত টহলে চরম বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। দিন ও রাতে বিজিবির স্পিডবোট এবং নৌকা চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় সীমান্ত সুরক্ষা ঝুঁকিতে পড়ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকাশ্যে নদী দখল করে এভাবে অবৈধ জাল বসিয়ে মাছ শিকার করা হলেও উপজেলা মৎস্য বিভাগের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বক্তব্য জানতে উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আইয়ুব আলীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে বিষয়টি নজর এড়ায়নি উপজেলা প্রশাসনের। মঙ্গলবার সকালে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সমন্বয় সভায় পোরশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, “নদীতে অবৈধ সুতি জাল বসানোর বিষয়টি প্রশাসন গুরুত্বের সাথে নিয়েছে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও সীমান্ত নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে এবং মৎস্যজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় খুব দ্রুত অভিযান চালিয়ে এসব সুতি জাল অপসারণ করা হবে।
