অভিনয় ছেড়েও টিকলো না শখের সংসার, সেই মীম এখন কেমন আছেন
শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় জগতে পরিচিতি পেয়েছিলেন সাবরীন সাকা মীম। বড় হয়েও অভিনয়ে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন তিনি। তবে ক্যারিয়ারের ব্যস্ত সময়ে হঠাৎ করেই অভিনয় থেকে আড়ালে চলে যান এই অভিনেত্রী। পরে সংবাদ উপস্থাপনা দিয়ে নতুন করে পেশাজীবন শুরু করলেও সেখান থেকেও সরে দাঁড়ান। সম্প্রতি সংগীতশিল্পী সাজিয়া সুলতানা পুতুলের উপস্থাপনায় ‘পুতুলঘরে আত্মকথন’ অনুষ্ঠানে নিজের অভিনয়জীবন, বিয়ে, বিচ্ছেদ ও ব্যক্তিগত নানা অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলেছেন মীম।
নিজের বিয়ে প্রসঙ্গে মীম জানান, অন্য অনেক মেয়ের মতো তিনিও সংসার নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলেন। সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দুজনই চেষ্টা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সংসার আর টেকেনি। মীমের ভাষায়, খুব শখ করে বিয়ে করেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন একসঙ্গে থাকার পর একসময় দুজনই বুঝতে পারেন, সম্পর্কটি আর আগের মতো ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক ভাবনাচিন্তার পর সাড়ে পাঁচ বছর পর আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তবে বিচ্ছেদের জন্য কাউকে এককভাবে দায়ী করতে চান না মীম। তার মতে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক হাতে তালি বাজে না। দুজনেরই কিছু না কিছু ভুল থাকতে পারে।
তিনি বলেন, ‘কাউকে দোষ দেব না। হয়তো আমিও দোষী, সে-ও দোষী। এক হাতে তো তালি বাজে না।’
ক্যারিয়ারের ভালো সময়ে অভিনয় থেকে সরে যাওয়ার পেছনে পারিবারিক কারণও ছিল বলে জানান মীম। শ্বশুরবাড়ির পছন্দকে সম্মান জানিয়ে তিনি অভিনয় ছেড়ে দিয়েছিলেন। মীম বলেন, অভিনয় থেকে সরে আসার পেছনে এটিই একমাত্র কারণ ছিল না। তবে পরিবারের পছন্দকে তিনি সম্মান করেছিলেন। বিষয়টি মেনে নিতে গিয়ে কখনো কখনো মন খারাপ হলেও কারও সঙ্গে এ নিয়ে বিরোধে জড়াননি। ২০১২ সালের পর নাটকে অভিনয় করা প্রায় বন্ধ করে দেন মীম। তার ভাষ্য, অভিনয় ছাড়ার পরিকল্পনা আগে থেকে ছিল না। পরিস্থিতির কারণে তখন এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।
বিচ্ছেদের সময় পরিবারের কাছ থেকে পাওয়া মানসিক সমর্থনের কথাও স্মরণ করেন মীম। তিনি জানান, বিচ্ছেদের কাগজে সই করার সময় তার হাত কাঁপছিল এবং ভয় লাগছিল। সেই কঠিন সময়ে বাবা-মা ও বোন তাকে সাহস দেন। এমনকি তাকে স্বাভাবিক করে তুলতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে প্রায় আড়াই মাস যুক্তরাষ্ট্রে সময় কাটান তারা। ভবিষ্যতে নতুন করে সম্পর্কে জড়ানো বা বিয়ে করার বিষয়েও নিজের দ্বিধার কথা জানিয়েছেন মীম। তার মনে হয়, আবার বিয়ে করার মতো মানসিক প্রস্তুতি এখনো তার নেই। তার মতে, বিয়ে তখনই করা উচিত, যখন দুজন দুজনের ভালো-মন্দ মেনে নেওয়ার মতো মানসিক অবস্থায় থাকবেন। একে অপরকে ছাড়া থাকা কঠিন- এমন অনুভূতি তৈরি হওয়ার পরই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। সূত্র: জাগো নিউজ
