রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের কমিটিতে আওয়ামীপন্থিদের পুনর্বাসনের অভিযোগ
স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী সাধারণ গ্রন্থাগারের পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। নবগঠিত কমিটিতে আওয়ামীপন্থি ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ তুলে কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়েছে রাজশাহীর নাগরিক সমাজ। এ দাবিতে জেলা প্রশাসক বরাবর সম্প্রতি একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়, রাজশাহী মহানগরীর মিয়াপাড়া, ঘোষপাড়া এলাকায় অবস্থিত রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগার একটি শতবর্ষী ও ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির নতুন অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিচালনা পর্ষদে পুরোনো ও ‘ফ্যাসিবাদী’ কাঠামো বহাল থাকায় নাগরিক সমাজ উদ্বেগ প্রকাশ করছে।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এর আগে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ তুলে জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পূর্ববর্তী কমিটি পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং একটি তথাকথিত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু সেই নির্বাচনের মাধ্যমেও বিতর্কের অবসান হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়, সম্প্রতি ডা. মো. গোলাম মাওলাকে গ্রন্থাগারের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অভিযোগকারীরা বলেন, তিনি অতীতে আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশু নির্যাতনের মামলা এবং রাজপাড়া থানায় দায়ের হওয়া আরও দুটি মামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে আরও দাবি করা হয়, নবগঠিত ১৩ সদস্যের কমিটির ১২ জন সদস্যই কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী বলয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ইতোমধ্যে তাদের উদ্যোগে গ্রন্থাগারে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী ও সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের উপস্থিতি ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে বলা হয়, একটি ঐতিহাসিক ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা প্রতিষ্ঠানটির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। তাই বর্তমান কমিটি বাতিল করে ফ্যাসিবাদবিরোধী, নিরপেক্ষ ও নাগরিক সমাজের গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে নতুন একটি অ্যাডহক কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে উদ্ভূত সংকট নিরসনেরও আহ্বান জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে নাগরিক সমাজের পক্ষে স্বাক্ষর করেন হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী। তিনি একই সঙ্গে গণঅভ্যুত্থান২৪ পরিষদ, রাজশাহীর সভাপতি। তিনি বলেন, রাজশাহী সাধারণ গ্রন্থাগারে জেলা প্রশাসন কর্তৃক বর্তমান যে কমিটি গঠন করা হয়েছে তা ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগের লোকজনদের নিয়ে করা হয়েছে। কমিটি গঠনের পূর্বে এ ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক কে বেশ কয়েকবার বলা হলেও তিনি কমিটিতে আওয়ামী লীগকেই পুর্নবাসন করে গেছেন। আমরা এই কমিটি মানি না। আমরা চাই এই কমিটি বাদ দিয়ে গণঅভ্যুত্থানের চেতনাধারী ব্যক্তিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হোক।
এ ব্যাপারে রাজশাহী বর্তমান জেলা প্রশাসক কাজী শহীদুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পরে বিষয়টি তদন্তের জন্য একজন ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন হয়েছে। তদন্ত করে এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
