সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে পঙ্গুত্ববরণ দু’মুঠো খাবার জোগাড়ে ভিক্ষে করে চলে সংসার
চারঘাট প্রতিনিধি
মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা বদলে দিয়েছে তফেজ আলীর জীবনের গল্প। যে মানুষটি একসময় স্বাভাবিক চলাফেরা করে জীবিকা নির্বাহের স্বপ্ন দেখতেন সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গুত্ববরণ করার পর আজ তাকে পেটের দায়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে হাত পাততে হচ্ছে। ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে কোন রকমে চলছে তার সংসার। এভাবেই প্রতিদিনের অভাব অনটনের সঙ্গে লড়াই করে বেঁেচ আছেন চারঘাটের তফেজ আলী।
পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, একসময় নিজের কর্মক্ষমতা আর পরিবারের সচ্ছলতায় স্বাভাবিক জীবন কাটিয়েছিলেন তফেজ। কিন্তু একটি আকস্মিক সড়ক দুর্ঘটনা তার জীবনের চাকা চিরতরে থামিয়ে দেয়। দুর্ঘটনায় তার শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ ও একটি পা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তিনি পঙ্গুত্ববরণ করেন। চিকিৎসায় সর্বস্বান্ত হওয়ার পর পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকার কোনো উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে তাকে পথে নামতে হয়।
বর্তমানে চারঘাট উপজেলার সারদা বাজার ও বিভিন্ন মোড়েবসে হাত পাততে দেখা যায় তফেজকে। সমাজের বিত্তবান ও সহানুভূতিশীল মানুষের দেওয়া সামান্য সাহায্যে কোনো রকমে তাঁর দিনাতিপাত হচ্ছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের উচ্চমূল্য এবং শারীরিক কষ্টের এই সময়ে সামান্য আয় দিয়ে সংসার চালানো তাঁর জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে।
সরজমিনে পঙ্গুত্ব বহনকারী তফেজের বাড়ী গিয়ে জানা যায়, উপজেলার সরদহ ইউনিয়নের সাদীপুর গ্রামের মেছের আলীর ছেলে তফেজ উদ্দিন। পেশায় ছিলেন একজন ভ্যান চালক। তফেজ একসময় পরিশ্রমী মানুষ ছিলেন। আজ থেকে প্রায় ৭বছর আগে নাটোরে গুড় নিয়ে যাবার সময় বেপরোয়া একটি বাসের সঙ্গে ঘটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা। কিন্তু এই সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর জীবনকে সম্পূর্ণ ওলটপালট করে দিয়েছে। পরিবার ও এলাকাবাসীর কাছে সংবাদআসে তফেজ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এমন সংবাদে এলাকাবাসী কবর খননসহ দাফনের কাপড় পর্যন্ত কিনে দাফনের ব্যবস্থা করেন। পরে আল্লাহর রহমতে হাসপাতালের চিকিৎসকদের নিবির পরিচর্যায় জ্ঞান ফিরে পান তফেজ। তবে শেষ পর্যন্ত সে জীবিত হয়ে বাড়ী ফিরলেও তাকে গ্রহন করতে হয়েছে পঙ্গু হয়ে। তার একটি পা ভেঙ্গে গেছে। পরিবারের সহায় সম্বল বিক্রি করেও চিকিৎসা করেও তার পা সচল করা সম্ভব হয়নি। ৪জনের সংসার চালাতে শেষ পর্যন্ত ভিক্ষাবৃত্তিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে ভিক্ষাবৃত্তি করেই কোন ভাবে চলে তফেজের সংসার। সরকারি কোনো সহযোগিতা বা কোনো হৃদয়বান ব্যক্তি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে হয়তো পঙ্গু এই মানুষটির জীবনের শেষ দিনগুলো একটু স্বস্তিতে কাটত বলে জানান এলাকাবাসী।তফেজের পরিবারের একটাই আকুতি, যদি কোনো সরকারি অনুদান কিংবা পুনর্বাসন সহায়তা পাওয়া যায়, তবে হয়তো এই মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি মিলত হতভাগ্য তফেজের। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রাশেদুজ্জমান বলেন,ভিক্ষাবৃত্তির জন্য সরকারীভাবে তেমন একটা বরাদ্দ আসেনা। তবে সড়ক দুর্ঘটনায় যদি একটি পা ভেঙ্গে হাটা চলা করতে না পারে তাহলে অফিসে এসে যোগাযোগ করলে দেখে শুনে প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
