চারঘাটে ৭ দিনের ব্যবধানে ৭ শিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টা, আতঙ্কে অভিভাবকরা
চারঘাট প্রতিনিধি
রাজশাহীর চারঘাটে মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ভিন্ন ভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত সাতজন শিশুশিক্ষার্থীকে অপহরণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে। কোনোমতে বেঁচে ফেরা এসব শিশুর মুখে অজানা আতঙ্ক, আর অভিভাবকদের মনে ভর করেছে তীব্র দুশ্চিন্তা। পরপর এসব ঘটনায় উপজেলাজুড়ে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে উপজেলা সদরে অবস্থিত চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়–সহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকা থেকে শিশুশিক্ষার্থীদের কৌশলে তুলে নেওয়ার বা ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায় এক বা একাধিক অজ্ঞাত অপহরণকারী চক্র। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চকলেট, খেলনা, টাকা দেওয়ার প্রলোভন কিংবা বাবা অসুস্থ—এমন খবর শুনিয়ে শিশুদের নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা, চিৎকার ও স্থানীয়দের তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো অঘটন না ঘটলেও ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ না হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও ভীতি বাড়তে দেখা গেছে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকরা। ফলে বিদ্যালয়ে শিশুদের পাঠানো নিয়ে চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অভিভাবকমহল।
চারঘাট মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়–এর ৫ম শ্রেণির ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া ইয়াসমিনের মা তিশা বলেন, “হঠাৎ করে স্কুলে যাওয়া–আসার পথে এসব ঘটনা ঘটছে শুনে আমরা ঘরে বসে শান্তিতে থাকতে পারছি না। ছোট ছোট বাচ্চাদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় লাগছে। এখন থেকে বাধ্য হয়ে নিজেরাই পাহারাদারের মতো সঙ্গে করে স্কুলে নিয়ে যাচ্ছি ও নিয়ে আসছি।”
ভুক্তভোগী পঞ্চম শ্রেণির শিশু নাফিজের বাবা জুয়েল বলেন, “আমার সন্তানকে স্কুলে যাওয়ার সময় ফুসলিয়ে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। সন্তানের বুদ্ধিমত্তায় অপহরণকারীর কথা শুনে দৌড়ে পালানোর সময় চাকু দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন অপহরণকারী। ভাগ্যক্রমে আমার সন্তান জানে বেঁচে ফিরলেও চরম আতঙ্ক ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। এরকম আতঙ্ক ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে চারঘাটের সব অভিভাবক।”
চারঘাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়–এর প্রধান শিক্ষক শামীমা ইয়াসমিন জানান, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় বিদ্যালয়ে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ক্লাস শুরুর আগে ও টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ছুটির পর অভিভাবকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করে শিশুদের বাড়ি পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সত্যতা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিষয়ে চারঘাট মডেল থানার কর্মকর্তা এ এস এম আব্দুন নূর জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিভাবকমহলে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ইতিমধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করতে এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি ও পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সন্দেহভাজনদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে এবং গুজবে কান না দিয়ে তাৎক্ষণিক পুলিশকে খবর দেওয়ার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
