গোদাগাড়ীতে বিদ্যুতের লোডশেডিং-এ জনজীবন বিপর্যস্ত, কৃষকের ভোগান্তি

গোদাগাড়ী সংবাদদাতা

গত কয়েক সপ্তাহ থেকে অব্যাহতভাবে বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। সেচযন্ত্রগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করে পানি দিতে হচ্ছে। রোপা আমন ধানের পেটে শীষ, কোথাও কোথাও ধান চালে চেপেছে, এ অবস্থায় কোনোভাবে সেচকাজে বিঘ্ন ঘটলে সারা বছরের কৃষকের পরিশ্রম বিফলে যাবে। এদিকে দীর্ঘদিন থেকে কোনো প্রকার ভারী বৃষ্টি না হওয়ায় ভ্যাপসা গরম বিরাজ করছে। এ কারণে বৃদ্ধ, শিশুসহ সব মানুষের মাঝে ঠাণ্ডাজনিত অসুখ দেখা দিয়েছে।

প্রতিদিন বিকেল–সন্ধ্যা–রাতে অব্যাহতভাবে লোডশেডিংয়ের কারণে মসজিদে, ঘরে–বাইরে কোনো শান্তি নেই। ফ্যান, মোটর, এসি, পানির পাম্প চলে না। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় ৬/৭ ঘণ্টা থাকতে হচ্ছে। বৃদ্ধ, ছাত্র, শিশুরা সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছে। ডায়রিয়া, সর্দি, কাশি, হাম, চর্মরোগসহ নানা রোগে ভুগছে। ১৫ অক্টোবর থেকে নির্বাচনী পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় শঙ্কায় পরীক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকগণ।

গোদাগাড়ী উপজেলার কৃষক আবদুল্লাহ আল মামুন আবুল জানান, এবার ১০ বিঘা জমিতে ধান লাগানোর পর থেকে লোডশেডিং, সার, কীটনাশক, বীজ, কৃষি শ্রমিকের মূল্যবৃদ্ধিতে বেসামাল হয়ে পড়েছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিছুদিন পর পাকা ধান ঘরে তুলতে পারব ইনশাল্লাহ।

গোদাগাড়ী পৌর এলাকার কৃষক আবদুল মাতিন বলেন, বিদ্যুতের ভেলকিবাজি, শ্রমিকদের পারিশ্রমিক বেশি, সেই সঙ্গে সার ও জ্বালানির মূল্য বাড়ায় গত বছরের তুলনায় এবার বোরো চাষাবাদে উৎপাদন খরচ বেশি পড়েছে। তারপরও এ অঞ্চলের কৃষকেরা বোরো চাষ করছেন।

গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ইরি–বোরো ধান আবাদ হয়েছে ১৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর। সবুজ আর সোনালী ধানের শীষে সকালে–বিকালে হালকা হাওয়ায় সবুজ ও সোনালী সংমিশ্রণে দুলছে ধানের শীষ, সেই সাথে দুলছে কৃষকের স্বপ্ন। শিবসাগর এলাকার অধিবাসী আবদুল হক (৬৫) জানান, মসজিদে মাগরিব ও আসরের নামাজ আদায় করতে গিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ আসা–যাওয়া করে। মুসল্লিগণ ঠিকভাবে নামাজ আদায় করতে পারেন না।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট