ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়ে জটিলতা হড়গ্রাম ইউপিতে অনাস্থা ভোট

স্টাফ রিপোর্টার

চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন। এরপর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়া প্যানেল চেয়ারম্যান-১ মুনজুর রহমানও মারা গেছেন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জয়নাল আবেদীনের দায়িত্ব নেওয়ার কথা থাকলেও, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই তাঁর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়। এ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার মধ্যে রাজশাহীর পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) অনাস্থা প্রস্তাবের ওপর বিশেষ সভা ও ভোট হয়েছে। গোপন ব্যালটে ভোটে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ৯টি এবং বিপক্ষে ২টি ভোট পড়েছে।

গতকাল শনিবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে এ বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউপির ১১ জন সদস্যই গোপন ব্যালটে ভোট দেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন হড়গ্রাম ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দুলাল হাসান। তদন্ত কর্মকর্তা ও পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান। ইউপি সচিব গোলাম সাকলায়েন, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রশিক্ষক সফিকুল ইসলাম, প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জয়নাল আবেদীন, প্যানেল চেয়ারম্যান-৩ রুপালী পারভীনসহ ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পবা উপজেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, গত ২৩ জুলাই হড়গ্রাম ইউপির ছয়জন সাধারণ সদস্য ও তিনজন সংরক্ষিত নারী সদস্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে জয়নাল আবেদীনের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। প্যানেল চেয়ারম্যান-১-এর অনুপস্থিতিতে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ হিসেবে জয়নাল আবেদীনকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে তাঁরা অনাস্থা জানান। এরপর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খানকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। জয়নাল আবেদীনের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়। উল্লেখ্য, হড়গ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এরপর প্যানেল চেয়ারম্যান-১ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুনজুর রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন। গত ১৭ আগস্ট অসুস্থতার কারণে তাঁর মৃত্যু হলে পরবর্তী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। তবে অনাস্থা প্রস্তাবের সময় জয়নাল আবেদীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। তাঁর ভাষ্য, এ অবস্থায় দায়িত্ব পালনে অনিয়ম, দুর্নীতি বা ব্যর্থতার অভিযোগ তাঁর ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হয়, সেটিই প্রশ্ন। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি হাইকোর্টে রিটও করেছিলেন। পরে লিভ টু আপিলের মাধ্যমে তাঁর রিট বাতিল হয়েছে বলে জানান তিনি।

এবিষয়ে প্যানেল চেয়ারম্যান-২ জয়নাল আবেদীন বলেন, অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়ার সময় আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করিনি। ফলে দায়িত্ব পালনে অনিয়ম বা ব্যর্থতার অভিযোগ আমার ক্ষেত্রে কীভাবে প্রযোজ্য হয়, সেটি নিয়ে প্রশ্ন আছে। এ বিষয়টি নিয়ে আমি হাইকোর্টে রিট করেছিলাম, পরে লিভ টু আপিলের মাধ্যমে সেটি বাতিল হয়েছে। তবে তদন্ত কর্মকর্তা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খান বলেন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ধারার ১ অনুযায়ী চেয়ারম্যান, সদস্য বা পরিষদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সুযোগ রয়েছে। এ ক্ষেত্রে দায়িত্ব গ্রহণ করা বা না করার বিষয়টি অনাস্থা প্রক্রিয়ার একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়। জটিলতা নিরসনের জন্য ইউপি সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে গোপন ব্যালটে ভোট নেওয়া হয়েছে। ভোটের ফলে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতার সত্যতা পাওয়া গেছে। ফলাফল ও সংশ্লিষ্ট নথি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্যানেল চেয়ারম্যান হওয়ার দিন থেকেই একজন সদস্য হিসেবে দায়িত্বশীল; আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো দিন দায়িত্ব পালন শুরু করলেই শুধু প্যানেল চেয়ারম্যান হবেন—বিষয়টি এমন নয়। এবিষয়ে ইউপি সদস্য দুলাল হাসান বলেন, অনাস্থা প্রস্তাবের বিষয়ে ইউপি সদস্যদের মতামত জানতেই বিশেষ সভার আয়োজন করা হয়েছে। পরিষদের ১১ জন সদস্যই উপস্থিত থেকে গোপন ব্যালটে ভোট দিয়েছেন। ভোট গণনায় অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে ৯টি এবং বিপক্ষে ২টি ভোট পাওয়া গেছে। নির্ধারিত নিয়ম মেনেই সভার কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট