বাগমারায় হিমাগারের আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ী
আফাজ্জল হোসেন, বাগমারা
রাজশাহীর বাগমারা ও তার পার্শ¦বর্তী এলাকায় হিমাগারে (কোল্ডইস্টোর) সংরক্ষণ করা আলু নিয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। আলুচাষিরা জানান, মওসুমে আলু বিক্রির পর তারা পুনরায় আলু চাষের জন্য প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও বেশী দামের আশায় আলু স্টোরে মজুত করেন। কিন্তু বর্তমানে বাজারে আলুর চাহিদা না থাকায় দাম নিম্নমূখী। এতে করে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকশানের পাশাপাশি হিমাগারের মজুত আলু নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন হিমাগার মালিকরাও। কৃষক-ব্যবসায়ীদের অভিযোগ আলুর দাম একটু বাড়তিতে সরকারী ভাবে রেট বেঁধে দেয়াসহ প্রশাসনের হুমকিতে কৃষক-ব্যবসায়ীরা অসহায় হয়ে পড়েন। কিন্তু এবারে দাম কমে সরকারী ভাবে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না।
আলুচাষী এবং হিমাগার মালিকদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৪টি কোল্ডইস্টোরে ৮ লক্ষাধিক মেঃ টন আলু সংরক্ষন করা হয়। প্রতি বছর শ্রাবণ-আশ্বিন মাসে চার ভাগের তিন ভাগ আলু চালান (বিক্রি) হয়। কিন্তু এবারে আলু বাজারে চাহিদা না থাকায় অতিরিক্ত আলু স্টোরে রয়ে গেছে। ফলে এবারে আলুর কাটতি না হওয়ার সম্ভাবনায় কৃষক উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। মওসুমে যে দামে ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে তার চেয়ে আলুর দাম নিম্নমুখি। এতে যে সব ব্যবসায়ীরা আলু ক্রয় করেছেন তারা বস্তাতে (৬৫ কেজি) ২শত থেকে ৩শ টাকা লোকশান গুণতে হচ্ছে। একই ভাবে আলুচাষিরা বস্তা প্রতি ৩শ থেকে ৪শ টাকা লোকশান গুণছেন। একাধিক কৃষকের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বিঘায় আলু চাষে ৮০ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এতে উৎপাদন বিঘায় ৭০ থেকে ৮০ মন। হিমাগার ফটকে এলাকাভেদে প্রতি কেজি আলুর দাম এখন ১০ থেকে ১২ টাকা। অথচ প্রতি কেজিতে উৎপাদন কৃষকের ১৬ টাকা খরচ হয়েছে। এর সঙ্গে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ যোগ করলে হিমাগারে সংরক্ষিত আলুর কেজিতে খরচ প্রায় ২৫ টাকা দাঁড়ায়। নাটোর কোল্ড স্টোরের হিসাব রক্ষক হানিফ উদ্দিন জানান, আলু কেনা-বেচা খুবই কম। কম দামের কারণে কৃষক- ও আলু ব্যবসায়ীরা বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, একজন কৃষক কেজিতে ১০ টাকা লসে আলু বিক্রি করছেন। বর্তমানে হিমাগারে সাড়ে ১২ টাকা থেকে ১৩ টাকায় প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে। তবে মধ্য স্বত্বভোগি খুচরা বাজারে ২০ থেকে ২৫ টাকা ওই আলু বিক্রি করছে। এতে নেই কোন বাজার ব্যবস্থার দেখভাল। বর্তমানে আলুর দাম না পাওয়া এবং সংরক্ষণ খরচ ও শ্রমিকের মজুরীসহ উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে লোকসানের মুখে পড়ে কৃষকরা দিশেহারা। এলাকার সিংহভাগ আলু ব্যবসায়ী ও আলুচাষী এখন দেনায় পড়ছেন। একই ভাবে স্থানীয় কৃষক ও আলু ব্যবসায়ীরা আলুর দুরাবস্থাকে সরকারী ব্যবস্থাপনাকে দোষছেন। বাজার ব্যবস্থায় আলু গুলো দেশ ও দেশের বাইরে নেয়ার ব্যবস্থা থাকলে তাদের দুরাবস্থা কমতো। সরকারী ভাবে কোন ব্যবস্থা না থাকায় আক্ষেপ করে তাঁরা বলেন, স্টোরজাত আলুর যে অবস্থা তা দেখার কেউ নেই। দাম কমের ব্যাপারে উপজেলার নাটোর কোল্ড স্টোরের ডিজি, এম খাইরুল বাসার বলেন, দেশে যে পরিমান আলুচাষ উৎপাদন তা দেশের বাইরে যাবার সুযোগ কম। বাইরে নিতে উন্নত যোগাযোগ সুবিধা নেই। পার্শ্ববর্তি দেশ থেকে রপ্তানিকারকরা তাদের নির্ধারিত জলজাহাজে বাইরে নেয়ার সুযোগ পায়। কিন্তু আমাদের দেশের জলজাহাজ গুলো বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে বহির বিশ্বে পাড়ি জমায়। ফলে দীর্ঘ সময়ের পথে আলুতে পচন ধরে। এছাড়া বিমান যোগে অতিরিক্ত খরচে আলু বাইরে দেশে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে দেশে আলু নির্ভর করে প্রকৃতির উপর। আলু প্রকৃতিক কারণে আমদানী ও চাহিদার উপর নির্ভরশীল বলে জানান তিনি।
