মাধ্যমিক স্তরে মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারে নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান

মাধ্যমিক স্তরে মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তারা বলেছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশেও শিক্ষার্থীদের বয়স ও শিক্ষার স্তর বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রয়োজন।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে জাতীয় শিক্ষা সংস্কৃতি আন্দোলন আয়োজিত এসএসসি সংবর্ধনা-২০২৬ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা। সংগঠনের আহ্বায়ক মুক্তিযোদ্ধা ও গণসংগীত শিল্পী মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সদস্যসচিব রুস্তম আলী খোকন। আলোচনায় অংশ নেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এম এম আকাশ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আকমল হোসেন, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শরীফুজ্জামান শরীফ, উন্নয়নকর্মী ওয়াসিউর রহমান তন্ময়, নাট্য ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব সুমনা সোমা ও সন্তু মিত্র, অভিভাবক প্রতিনিধি অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান ও কাওসার আহমেদ এবং সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা রিয়াজ মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ইতিবাচক নানা দিক থাকলেও এর নেতিবাচক প্রভাবও রয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি দায়িত্বশীল ও শিক্ষাবান্ধব ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইতোমধ্যে নীতিমালা গ্রহণ করা হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও সিঙ্গাপুরে কিশোর-কিশোরীদের বয়স বিবেচনায় প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশেও স্কুলে মোবাইল প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে কার্যক্রম চলছে।

দেশীয় শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিষ্টাচার চর্চার পাশাপাশি বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা। তারা বলেন, বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চায় উৎসাহিত করা না গেলে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়তে পারে। শিক্ষাক্ষেত্রের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে বক্তারা বলেন, শিক্ষা নিয়ে যেকোনো উদ্যোগে দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক স্বার্থ ও মতাদর্শের সংকীর্ণতা পরিহার করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক উন্নয়নে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। অনুষ্ঠানে আগামী ৬ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস যথাযথ মর্যাদায় পালনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া ঢাকা নগরের কয়েকশ শিক্ষার্থীর হাতে ফুল, সনদপত্র, ক্রেস্টসহ বিভিন্ন উপহার তুলে দেওয়া হয়। পরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর পরিদর্শন করেন। সূত্র: কালের কন্ঠ

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট