গোমস্তাপুরের ক্যান্সারে আক্রান্ত মুজিব বাঁচতে চায়, সাহায্যের আকুতি

গোমস্তাপুর প্রতিনিধি

ক্যানসারে আক্রান্ত মজিবুর বাঁচতে চায়। সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা পেলে চিকিৎসা নিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন তিনি। অভাবের সংসার, তবুও সুখের কমতি ছিল না। মানুষের বিপদে-আপদে সবসময় পাশে দাঁড়াতেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউনিয়নের রতনপুর গ্রামের ৫৩ বছর বয়সী দিনমজুর মজিবুর রহমান। কিন্তু আজ সেই মানুষটির জীবনে নেমে এসেছে এক গভীর অমানিশা। মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। সহায়-সম্বলহীন পরিবারটি এখন চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। জীবনের কঠিন সমীকরণে আজ তিনি বড় অসহায়। মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত দিনমজুর মজিবুর রহমান বর্তমানে চিকিৎসার খরচ চালাতে না পেরে অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বাঁচার জন্য সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আর্থিক সহায়তার আকুতি জানিয়েছেন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন এই মজিবুর রহমান। দিনমজুরের কাজ করে যা আয় করতো, তা দিয়েই চলতো তাঁদের এই সুখের সংসার। কিন্তু হঠাৎ করেই তার শরীরে দেখা দেয় এই মরণব্যাধি ক্যানসার। মজিবুর রহমান মাঝেমধ্যেই মলদ্বারে ব্যথা অনুভব করতেন। আর্থিক অনটনের কারনে তিনি ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে পারেননি। বিধায় তিনি নিজ গ্রামেই কবিরাজ ও ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে মলদ্বারের ব্যথা নিরাময় করতেন। হঠাৎ একদিন তিনি মলদ্বারে ব্যথার কাতরে অচেতন হয়ে পড়লে, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, তাঁর পায়ুপথে মরণব্যাধি ক্যানসার বাসা বেঁধেছে। বর্তমানে দিনমজুর মজিবুর রহমানের পরিবারটি দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

মজিবুরের কোনো নিজস্ব জমিজমা নেই, পুকুরের পাড়ে একটি খাস জমিতে কোনোমতে মাথা গুঁজে রয়েছে তাঁর পরিবার। জমানো কোনো পুঁজি বা জমি বিক্রি করে যে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করবে, সেই উপায়ও নেই। তাঁর পরিবারের শেষ সম্বল দুটি ছাগলছানা বিক্রি করেই তাকে রাজশাহীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখন তার সংসার চলবে কিভাবে আবার অন্যদিকে ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন তা আবার পাবে কোথায়—এই দোদূল্যমান অবস্থায় নিষ্ঠুর বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছে তার পুরো পরিবার।

অশ্রুসিক্ত নয়নে মজিবুরের স্ত্রী মমতাজ বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, এই পৃথিবীতে আমার স্বামী ছাড়া আর কেউ নেই। স্বামী যখন সুস্থ ছিল, তখন কাজ করে তিনবেলা আমাকে খাইয়েছিল। পরিবারের দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বেশ হাসি-খুশিতেই দিন কাটছিল আমার। হঠাৎ এই মরণব্যাধি ক্যানসার আমাদের পরিবারের সকল সুখ-শান্তি কেড়ে নিয়েছে। আমরা এখন নিরুপায়। আমি এই অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে কী করব, কি খাব, কীভাবে বাঁচব? আপনারা আমার স্বামীকে বাঁচান। আমার পরিবারের সুখ-শান্তি ফিরিয়ে দিন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে মজিবুর রহমান বলেন, আগে আমি কাজ করে বেশ ভালভাবেই সংসার চালাতাম। কিন্তু এখন আমি ক্যানসারে আক্রান্ত! সংসার চালাতে পারছি না, চিকিৎসাও করাতে পারছি না। ক্যানসার রোগের চিকিৎসা অনেক ব্যয়বহুল হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। আপনারা দয়া করে আমাকে সাহায্য করুন, আমার পরিবারটিকে বাঁচান।

গোমস্তাপুর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জিল্লুর রহমান জানান, অসহায় এই পরিবারটির কথা আমরা জেনেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্যই সহায়তা থাকবে। তিনি আরো বলেন, উপজেলা সমাজসেবা অফিস কর্তৃক ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর জন্য সরকারের পক্ষ থেকে যে এক লক্ষ টাকা অনুদান দেয়ার কথা রয়েছে উনি আবেদন করলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট