হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও গুমের নির্দেশ দাতা : স্পীকার

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম বলেছেন, শেখ হাসিনা ছিলেন বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও গুম খুনের নির্দেশ দাতা। গুম হওয়া স্বজনদের গণভবনে ঢেকে তাদের স্ত্রী সন্তানদের মাথায় বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতেন। পক্ষান্তরে তার ভিতরেই লুকিয়ে থাকতো গুমে সম্পৃক্ত থাকার হিংস্র মনোভাব। গুম হওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের শেখ হাসিনা আশ্বস্ত করতেন তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়ার।কিন্তু ফিরিয়ে দিতেন না। কারন তিনি নিজেই জানতেন আসলে গুম হওয়া ব্যক্তিরা কোথায় আছেন। তার এসব আচরণ ও অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বের সেরা অভিনেত্রীর অভিনয় করেছেন।

তিনি বলেন, জনগণ তখন বুঝতে পারেনি। এখন জনগণের কাছে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনালে গুম ব্যক্তিদের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে এখন জনগণের কাছে প্রমাণ হয়ে গেছে শেখ হাসিনা বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী ও নিজেই ছিলেন গুমের নির্দেশ দাতা। একজন ব্যারিষ্টারকে আট বছর হ্যান্ডকাফ লাগিয়ে আয়না ঘরে বন্দি করে রেখেছেন। কতবড়ো মির্মম ও জঘন্যতম কাজ করা হয়েছে তার সাথে। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি মুক্ত হয়ে এখন সংসদ সদস্য হয়েছেন।

গতকাল শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১ টায় লালমোহন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাফর ইকবালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম বাবুলের সঞ্চালয়ায় উপজেলা অডিটরিয়ামে লালমোহন উপজেলা নাগরিক সমাজের আয়োজনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দূর্নীতি ও লুটপাট প্রসঙ্গে মেজর হাফিজ বলেন , রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে একটি বালিশের দাম ধরা হয়েছে ৬০ হাজার টাকা। একটি পর্দার দাম ধরেছে ৪২ হাজার টাকা। তখনকার এক ভূমি প্রতিমন্ত্রী যার লন্ডনে ৩৬০টি বাড়ি রয়েছে। সরকারের ধারাবাহিক উন্নয়নের প্রকল্পগুলো কাজ না করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। লালমোহনের স্থানীয় রাজনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে এ আসনে ঢাকা থেকে ভাড়া করে আনা একজন বিনা ভোটের এমপি ছিলেন তিনি ছিলেন। সে ছিল একজন শীর্ষ সন্ত্রাসী ও খুনি।তার হাতে নিজ দলের লোকজন ও নিরাপদ ছিলনা। ২০১০ সালের উপনির্বাচনে ঢাকা থেকে সন্ত্রাসী এনে দিনে দুপুরে আমার নেতাকর্মীদের বাড়িতে গিয়ে রামদা দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে এবং বাড়িঘর ভাঙচুর করেছেন। আমার বাড়ীর চারদিকে সন্ত্রাসী দিয়ে ঘীরে রেখেছে।

তখনকার আমার নির্বাচনি প্রধান সমন্বয়ক ভোলা-৪ আসনের সাবেক এমপি নাজিম উদ্দিন আলমকে পিটিয়ে জখম করেছে। আমি হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করতে পারিনি।তিনি বলেন আপনারা আমাকে ভোট দিয়েছেন সরকার আমাকে স্পীকার বানিয়ে সম্মানিত করেছে। এ সম্মান একা আমার নয় এ সম্মান আপনাদেরও।

উন্নয়ন প্রসংগে তিনি বলেন আগামী ৬ মাসের মধ্যে লালমোহন সকল রাস্তা চলাচলের উপযোগী করে গরে তোলা হবে। এলাকার উন্নয়ন করার সকল চেস্টা করা হবে। কারো ব্যাক্তি উন্নয়ন করা সম্ভব নয়।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন লালমোহন পৌরসভার বিএনপির সভাপতি ছাদেক জান্টু,সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বাবুল পাটোয়ারী,শফিউল্লাহ হাওলাদার, অধ্যক্ষ ফরিদ উদ্দিন,প্রেসক্লাব সভাপতি শাহিন পাটোয়ারী, যুবদলের সভাপতি শাহিনুল ইসলাম কবির হাওলাদার, সম্পাদক হাচান কাজী,স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক প্রভাষক রেজাউর রহমান শাহিন, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক শহিদ হাওলাদার সহ লালমোহন উপজেলা বিএনপির সকল অংগ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সূত্র: ইনকিলাব

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট