ঢেঁড়সের পিচ্ছিল অংশই কতটা উপকারী, জানলে অবাক হবেন
ঢেঁড়সের পিচ্ছিলভাব অনেকেরই অপছন্দ। বিশেষ করে শিশুরা এই সবজি খেতে চায় না। কিন্তু স্বাদের বা গঠনের কারণে ঢেঁড়স এড়িয়ে গেলে শরীর বঞ্চিত হতে পারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টিগুণ থেকে। ফাইবার, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সবই রয়েছে এই সবজিতে। চেন্নাইয়ের ফিটনেস ও পুষ্টিবিষয়ক কোচ রাজ গণপথ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢেঁড়সের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য উপকারের কথা তুলে ধরেছেন। হিন্দুস্থান টাইমসের এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায়।
ঢেঁড়সে রয়েছে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয়—দুই ধরনের ফাইবার। রাজ গণপথের মতে, ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে প্রায় ৩ থেকে ৪ গ্রাম ফাইবার থাকে। অথচ এতে ক্যালরি মাত্র ৩০-এর মতো। ঢেঁড়সের ভেতরের যে পিচ্ছিল অংশ দেখা যায়, সেটিও এক ধরনের উপকারী ফাইবার। এই দ্রবণীয় ফাইবার হজমতন্ত্রে চিনি ও কার্বোহাইড্রেট শোষণের গতি ধীর করতে সাহায্য করতে পারে। ঢেঁড়সে থাকা পেকটিন নামের প্রিবায়োটিক ফাইবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার জন্যও সহায়ক। ঢেঁড়সে রয়েছে ম্যাগনেশিয়াম। এটি শরীরের স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। রাজের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম ঢেঁড়সে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ মিলিগ্রাম ম্যাগনেশিয়াম থাকতে পারে। এটি দৈনিক প্রয়োজনের প্রায় ১৫ শতাংশের সমান। এ ছাড়া রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ এবং হাড়ের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ম্যাগনেশিয়াম গুরুত্বপূর্ণ।
ঢেঁড়সে ভিটামিন সি ও ভিটামিন কে-ও পাওয়া যায়। ভিটামিন সি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, টিস্যু মেরামত ও কোলাজেন তৈরিতে ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে ভিটামিন কে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ। হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখতেও এই ভিটামিন প্রয়োজন। রাজ গণপথের মতে, ১০০ গ্রাম ঢেঁড়স থেকে ভিটামিন সি ও কে-এর দৈনিক চাহিদার ২৫ শতাংশের বেশি পাওয়া যেতে পারে।
ঢেঁড়সে বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এগুলো শরীরের কোষকে ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালের কারণে হওয়া ক্ষতি থেকে সুরক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে। ঢেঁড়সে থাকা পলিফেনলসহ বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান হৃদ্যন্ত্র ও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী হতে পারে বলে রাজ গণপথ উল্লেখ করেছেন।
ঢেঁড়সের পিচ্ছিলভাব অনেকের কাছে বিরক্তিকর হলেও এর পুষ্টিগুণ কম নয়। বরং ওই পিচ্ছিল অংশেই রয়েছে উপকারী ফাইবার। তাই ঢেঁড়সের স্বাদ বা গঠন পছন্দ না হলেও ভিন্নভাবে রান্না করে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে কোনো খাবারকে রোগের চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা না করে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে খাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ। দ্রষ্টব্য : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া রাজ গণপথের বক্তব্যের ভিত্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এগুলো চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। সূত্র: কালের কন্ঠ
