ধানের দাম কমাতে কৃষক পরিবারে হাহাকার বাগমারায় ধানের দাম কমলেও চালের দাম কমেনি
স্টাফ রিপোর্টার, বাগমারা
রাজশাহীর বাগমারায় ধানের দাম মন প্রতি ১৫০/- টাকা থেকে ২০০/- টাকা কমেছে। এলাকায় আউস মওসুমের ধান কাটা-মাড়াই শুরুতে ধােেনর বাজার নিম্নমুখী। ধানের ফলন ভালো হলেও আকাঙ্খিত মুল্য না পেয়ে ধানচাষিরা লোকশান গুণছেন। ধানের দাম কমাতে কৃষক পরিবারে হাহাকার দেখা দিয়েছে। উড়তি আউস ধান উঠার ভাবে কৃষকরা বেশী বেশী ধান বাজারে সরবাহ করছে। এদিকে ধানের সরবরাহ বাড়াই ব্যবসায়ীরা ধান ক্রয়ে কৌশল করছে বলে ধানচাষীর অভিযোগ তুলেছেন। ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে কৃষকরা বিপকে পড়েছেন। এবারে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সারের মূল্য বৃদ্ধি, শ্রমিক সংকটে অতিরিক্ত মুজুরীতে কৃষকের ধানচাষে খরচ অনেকটা বেড়েছে। ফলে বাজারে ধানের ন্যায্য মূল্য না পেলে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে কৃষকরা দাবি করেছেন।
উপজেলার মোহম্মাদপুর, গোপালপুর, বালানগর, দেউলিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গত বছর বীজ সংকট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধানের চাষে প্রায় অর্ধেক উৎপাদন হয়েছিল। এবারে আউস ধানচাষে কৃষকরা পুষিয়ে নিতে গত বছরের থেকে বেশী ধানচাষ ও উৎপাদনে ঝুঁকে। ধানের ফলন ভালো হয়েছে। তবে বিগত দিনের চেয়ে খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ মিলছে না। স্থানীয় কৃষকরা জানান, ১ বিঘা জমিতে ধান চাষ করতে ১৫/১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। বর্তমানে বাজারে ৮৫০/১০০০ টাকা দামে ধান বিক্রি চলছে। বিঘায় মওসুমের ধান উৎপাদন ১২/১৩ মন ফলছে। কীটনাশক, শ্রমিকের মজুরীসহ উপকরণের মূল্য বৃদ্ধিতে ধান চাষে বিঘা প্রতি ৩ হাজর থেকে ৪ হাজার টাকা লোকশান হচ্ছে। দীঘ সময় ধরে মুলধন ও শ্রম দিয়ে তেমন লাভ না পাওয়ায় কৃষকরা হতাশায় ভুগছেন।
বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক দিনের ব্যবধানে প্রতি মন মোটা (৭৫) জাতের ধানের দাম কমেছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। বাজারের ধান ক্রেতা ইনতাজ আলী জানান, কয়েক দিন আগেই প্রতি মন (৭৫) জাতের ধান বিক্রি হতো ১হাজার ২শত ৫০/- টাকা থেকে ১ হাজার ৩শত টাকায় কেনা-বেচা হয়েছে। এখন তা বিক্রি হচ্ছে মনে- ২০০টাকা থেকে ৩০০ টাকা কম। ধানের দাম কমতিতে ধান নিয়ে স্বপ্ন কৃষকের ভেস্তে বসেছে। বালানগর গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান জানান, ধানের ফলন ভালো হবে, এমনটি ভেবে অনেক পরিকল্পনা তার হাতে ছিল। কিন্তু দাম কমতিতে তিনি পরিকল্পনা না করে সংসার চালানো দায় হয়ে পড়বে বলে দুশ্চিনাতায় করছেন।
এদিকে বাজারে ধানের দাম দাম মন প্রতি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা কমলেও আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে চাল।
গতকাল রোববার উপজেলার বিভিন্ন বাজারে চালের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, এখন পর্যন্ত ধানের দাম কমার প্রভাব পড়েনি। ভবানীগঞ্জ বাজারের চাল ব্যবসায়ী আশিকুর, সহেল, আব্দুল মান্ননসহ অনেকে জানান, তারা শুনেছেন ধানের দাম কমেছে। কিন্তু মিলের মালিকদের কাছে আগের দামেই তাদের চাল কিনতে হচ্ছে। তাই বাজারে চালের দাম কমেনি।
এদিকে ধান বিক্রেতা বালানগর গ্রামের ফছির উদ্দিন, চয়েন, আলতাফ হোসেনসহ স্থানীয়দের সাথে কথা হলে তারা জানান, এলাকার বেশী ভাগ লোক কৃষি কাজে জড়িত। গত কয়েক বছর ধরে তারা কৃষি কাজে লোকশান গুনেছেন। এবারে মরিজ, বেগুন ও সবজির দাম ভালো পেলেও ধানের খরচে ধান চাষে লাভ হচ্ছে না বলে তারা দাবি করেন। হঠাৎ করে এবারে আবার ধানের দাম কমতিতে তারা আসন্ন বোরো ধান চাষে তাদের মুলধন হারাতে হবে বলে দাবি করেছেন তারা। তারা ধান চাষে বাড়তি খরচ গুণছেন। বিগত দিনের সার, কীটনাশক, ডিজেল ও বিদ্যুতের দাম বাড়তির সাথে শ্রমিকের মজুরী বেশীতে ধান চাষে লাভ মিলবে না বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
