বরেন্দ্র অঞ্চলের সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে বিএমডিএ’র চেয়ারম্যান হাসান জাফির তুহিন
রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান (সচিব পদমর্যাদা) হাসান জাফির তুহিন। গতকাল শনিবার রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলে সেচ ও পানি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন কালে তিনি গোদাগাড়ী, নাচোল ও গোমস্তাপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল, কৃষিজমি, বিএমডিএ‘র ডাবল লিফটিং সেচ প্রকল্প, পুণর্ভবা নদীতে স্থাপিত সেচ প্রকল্প এবং মহানন্দা নদীর প্রস্তাবিত ডাবল লিফটিং প্রকল্পের ইনটেক পয়েন্ট পরিদর্শন করবেন। পরে গোমস্তাপুর জোন ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ রিজয়ন অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন।
এসময় বিএমডিএ‘র চেয়ারম্যান হাসান জাফির তুহিন, বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি উৎপাদন টেকসই রাখতে পানির সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি সেচ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, পানির অপচয় রোধ এবং কৃষকের প্রয়োজনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে পানির সুষ্ঠু, পরিকল্পিত ও টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। সেচ ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম, অপচয় বা কৃষক হয়রানি বরদাশত করা হবে না। মাঠপর্যায়ে প্রকল্পের বাস্তব অবস্থা নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে সেচনির্ভর। তাই কৃষকের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে সেচ অবকাঠামোর উন্নয়ন, খাল ও জলাশয়ের কার্যকর ব্যবহার এবং ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে পানি সংরক্ষণ ও অপচয় রোধে দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি। এসময় সকল স্থানীয় নেতৃবৃন্দের কথা শুনেন এবং দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। পরিদর্শন কালে বিএমডিএ‘ র নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন “চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী মাঠপর্যায়ে বিএমডিএ‘র সেচ কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। কৃষক যেন সময়মতো সেচ সুবিধা পান এবং প্রকল্পের সুফল সরাসরি তাদের কাছে পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বরেন্দ্র অঞ্চলের পানিসম্পদ সংরক্ষণ ও কৃষির উন্নয়নে বিএমডিএ সমন্বিতভাবে কাজ করবে।”তিনি বলেন, “সেচ প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর পাশাপাশি পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হবে। কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএমডিএ‘র নির্বাহী পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম খান, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ড. আবুল কাসেম, বিএমডিএ‘র পরিচালনা বোর্ড সদস্য জনাব শফিকুল আলম সমাপ্ত, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান মনির, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ তরিকুল ইসলাম, নির্বাহী প্রকৌশলী এ.এস.এম দেলোয়ার হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী আল মামুন উর রশিদ, সহকারী প্রকৌশলী আব্দুল লতিফ, সহকারী প্রকৌশলী মুসাইক মাসরুর রানা, সহকারী প্রকৌশলী আলম আব্দুল মান্নান, সহকারী প্রকৌশলী রেজাইল করিম সংশ্লিষ্ট রিজিয়ন ও জোনের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ স্থানীয় কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।
