নবম পে-স্কেল এবছরেই বাস্তবায়ন : অর্থমন্ত্রী
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে বেতন কাঠামোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আরও পর্যালোচনা ও আলোচনা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পে-কমিশনের প্রতিবেদনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। সবদিক বিবেচনায় নিয়ে আলোচনা চলছে। আজকের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তবে আরও কিছু বিষয়ে পর্যালোচনা প্রয়োজন রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর তা জানানো হবে। নবম পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যে কার্যকর হবে কিনা— এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বছরের মধ্যেই হবে, অবশ্যই হবে। এ বছরের মধ্যেই হবে, সবই হবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু পে-কমিশনের সুপারিশ নয়, এর সঙ্গে আরও বেশ কিছু বিষয় যুক্ত রয়েছে। বিশেষ করে জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন কাঠামোসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সমন্বয় করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এদিকে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ বাড়বে কিনা— এ প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু বলেন, একটু একটু।
সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল (পে-স্কেল) চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে গঠিত সচিব কমিটি এবং বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশনের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এখন মন্ত্রিসভার অনুমোদনের অপেক্ষা। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হওয়ার পর নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সচিব কমিটি পে কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে বেতন বৃদ্ধির হার নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। এতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর আগে পে-কমিশন যে প্রস্তাব করেছিল সেখানে ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সচিব কমিটি সেটা কমিয়ে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। এতে বর্তমান আর্থসামাজিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতির উচ্চ ধারাকে আমলে নেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বর্তমানে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১৭-২০ হাজার টাকার কাছাকাছি করার প্রস্তাব রয়েছে। অন্যদিকে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। তবে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের সময় এসব অঙ্কে পরিবর্তন আসতে পারে।
দুই ধাপে বাস্তবায়ন হবে নতুন বেতন কাঠামো
নতুন পে-স্কেল দুই ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ভাতা, উৎসব ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সমন্বয় করা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাজেটের ওপর প্রভাব, মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি এবং সরকারি ব্যয়ের ভারসাম্যের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। সূত্র: বাংলাদেশ প্রতিদিন
