ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি  সনদ বাধ্যতামূলক হয়েছে দাবিটি ভুয়া

‘চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি ছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে’-এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন সচিবের বরাতে প্রচারিত এই দাবিটি ইতিমধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ’ শিরোনামে জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর একটি পেপার কাটিংও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা দাবিটিকে আরও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে উপস্থাপন করছে। আলোচিত দাবিতে কয়েকটি পোস্ট আছে এখানে, এখানে, এখানে , এখানে এখানে, এখানে এবং এখানে।

গফ গড়যরঁফফরহ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে গত ২৮ জুলাই আরোচিত দাবিতে একটি পোস্ট শেয়ার করা হয়। শেয়ার করা ওই পোস্টে ৩১ জুলাই বেলা ১২টা পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার রিয়েকশন, ৩৪৭ কমেন্ট ও ৩৩৮ শেয়ার রয়েছে। আলোচিত দাবিতে শেয়ার করা এসব পোস্ট, ফটোকার্ড ও পেপার কাটিং-এর কমেন্ট পর্যালোচনা করে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়। অধিকাংশ ব্যবহাকারী এমন দাবিকে সাধুবাদ জানালেও অনেকেই এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

প্রচারিত পোস্ট ও ফটোকার্ডের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কি ওয়ার্ড দিয়ে অনুসন্ধানে মূলধারার কোনো গণমাধ্যমে এমন কোনো প্রতিবেদন কিংবা তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটেও চেয়ারম্যান বা মেম্বার পদে প্রার্থিতার জন্য এমন কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের তথ্য বা প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ২০০৯ সালের স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন পর্যালোচনায়ও আলোচিত দাবির কোনো ভিত্তি মেলেনি। আইনের ২৬ ধারা অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়নি। অর্থাৎ, শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকলেও আইনগতভাবে একজন ব্যক্তি ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে পারেন।

পরে ‘ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান ও মেম্বার পদের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ’ শিরোনামে প্রচারিত জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনএর পেপার কাটিংটি পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে ডিজাইন, ফন্ট, নিউজের মধ্যে স্পেস, বানান এবং হিন্দি লেখা-সহ একাধিক অসঙ্গতি দেখা যায়।

এ ছাড়া পেপার কাটিংটিতে প্রকাশের তারিখ ১৯ মে, ২০২৬ উল্লেখ থাকায় ওই তারিখ ধরে অনুসন্ধান চালানো হয়। তবে বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, ওয়েবসাইট কিংবা প্রিন্ট সংস্করণে এমন কোনো প্রতিবেদন বা তথ্যের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। উপরন্তু প্রচারিত পেপার কাটিংটির সঙ্গে পত্রিকার প্রকৃত প্রকাশনার অমিল পাওয়া যায়। সূত্র: আজকের পত্রিকা

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট