বাঘায় বিক্ষোভ সমাবেশে ইউএনওর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ
বাঘা প্রতিনিধি :
বাঘা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বদলির আদেশে একসাথে শূন্য হয়ে পড়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ চেয়ার। ফলে উপজেলার প্রশাসনিক ও জনসেবা কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ফাইল আটকে সেবা পাচ্ছে না জনগণ।
জানা যায়, বিদায়ী ইউএনও শাম্মী আক্তার নিজ দপ্তরের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বাঘা পৌর সভা,আড়ানী পৌরসভার মেয়রের ও ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (এসি ল্যান্ড)’র দায়িত্বও পালন করছিলেন। গত রোববার (২৬ জুলাই) হঠাৎ করেই তার বদলির আদেশ জারি হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠানই প্রধানবিহীন হয়ে পড়ে।
শূন্য পদে লোকবল নিয়োগ না দিয়ে তার বদলি আদেশে নাগরিক সেবা, উন্নয়ন কাজ ও দাপ্তরিক ফাইল নিষ্পত্তি ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নতুন ইউএনও যোগদান না করা পর্যন্ত বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
মঙ্গলবার (২৮জুলাই)কথা হলে, বাঘা পৌর সভার মহসিন আলী, আড়ানী পৌরসভার সাগর আলী সহ ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা এমরান আলী জানান, শুধু প্রশাসকের স্বাক্ষরের অভাবে তাদের ঘুরে আসতে হলো। তাদের মতো অনেকেই ওই দপ্তরে কাজে এসে স্বাক্ষরের অভাবে ঘুরে যাচ্ছেন।,
জানা গেছে, শনিবার (২৫জুলাই)বাঘা উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে আবেদনকারিদের লিখিত- মৌখিক পরীক্ষার দিন ধার্য ছিল। সুপারভাইজার পদে ৭জনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৯৩ টি। আর তথ্য সংগ্রহকারী ৮২ জনের বিপরীতে আবেদন জমা পড়ে ৫৩০ টি। পরীক্ষা শুরু হয় নির্ধারিত সময় থেকে ১ ঘন্টা পর সকাল ১১ টায়। মৌখিক পরীক্ষা শুরুর আগে শুধুমাত্র সুপারভাইজার পদে লিখিত ফলাফল জানানো হয় । কাঙ্খিত ফলাফল বিপর্যয়ে হৈচৈ শুরু হয়। এক পর্যায়ে উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিএনপি নেতা কর্মীরা। সেখানে ইউএনও শাম্মী আক্তারের বিরুদ্ধে ফলাফল ফল ফল প্রকাশে অনিয়ম সহ ঘুসখোর , দুর্নীতিবাজ , ফ্যাসিস্ট সমর্থিতদের পুনর্বাসনের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ -বদলির দাবি করা হয়। পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে বিএনপি নেতাদের সাথে বৈঠক করে পরিস্থিতি শান্ত করেন। পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন,সাধারন সম্পাদক তফিকুল ইসলাম তফি ইএনওর বিরেুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশের সত্যতা স্বীকার করেছেন।
এনিয়ে গত রোববার (২৬ জুলাই) রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে বদলি আদেশ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
তাতে উল্লেখ করা হয় , বাঘা উপজেলার ইউএনও হিসেবে কর্মরত শাম্মী আক্তারকে জনস্বাবার্থে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর বাঘায় উপজেলা নির্বাহি অ ফিসার হিসেবে যোগদান করেন শাম্মী আক্তার। যোগদানের কয়েকমাস পরে তার বদলি আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
এদিকে সঠিক তদন্ত না হওয়ায় অনিয়ম দুর্নীতি সহ ফ্যাসিস্ট সমর্থিতদের পুনর্বাসনের বিষয়ে অভিযোগ নিয়ে জনমনে মনে প্রশ্ন উঠেছে। একই সাথে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করা হয়েছে।
এবিষয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের মুঠোফোনে যোগাযোগ করে ইউএনও’র বদলিতে দাপ্তরিক সেবা বিঘ্নিত ও বিক্ষোভ সমাবেশে অভিযোগ জানতে চাওয়া হলে তিনি বাঘার বদলি ইউএনওর সাথে কথা বরতে বলেন। বদলি ইউএনও শাম্মী আক্তার বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে চার্জ হস্তান্তর করবেন। এর পরে কাকে দায়িত্ব দিবেন সেটা আমার উর্ধ্বতন কর্র্তপক্ষে ব্যাপার। তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলেন,সরকারি নির্দেশনায় নীতিগতভাবে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। এতে খুশি না হয়ে মিথ্যা অভিযোগ করতে পারে।
