উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গঠনে ৩ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন
দেশের উত্তরাঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা, কৃষিপণ্যের মূল্য সংযোজন বৃদ্ধি, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি পুনঃ অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে দেশের তফসিলি ব্যাংকগুলোর জন্য একটি বিস্তারিত নীতিমালা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।সোমবার (৬ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংকের কৃষি ঋণ বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে এ তথ্য জানানো হয়।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতেই এই বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা হয়েছে।সার্কুলারে আরও বলা হয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য বিমোচনে কৃষি খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের জেলাগুলো দেশের অন্যতম প্রধান কৃষি উৎপাদন অঞ্চল হলেও আধুনিক পোস্ট-হারভেস্ট ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ অবকাঠামো, বিশেষায়িত হিমাগার, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এ অঞ্চলের প্রকৃত অর্থনৈতিক সম্ভাবনা এখনও পুরোপুরি বিকশিত হয়নি। ফলে কৃষকরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন এবং জাতীয় অর্থনীতিও সম্ভাব্য সুবিধা থেকে পিছিয়ে থাকে।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে উত্তরাঞ্চলে কৃষিপণ্যের উৎপাদন থেকে শুরু করে সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাজারজাতকরণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি পর্যন্ত সম্পূর্ণ কৃষি মূল্য শৃঙ্খল (এগ্রি ভ্যালু চেইন) শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় তফসিলি ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত্ত তারল্য থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার এই পুনঃঅর্থায়ন তহবিল পরিচালিত হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, তহবিলের মেয়াদ হবে সার্কুলার জারির তারিখ থেকে তিন বছর। তবে এ সুবিধা শুধুমাত্র উত্তরাঞ্চলের অর্থাৎ রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের আওতাধীন জেলাগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। তফসিলি ব্যাংকগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অংশগ্রহণ চুক্তি স্বাক্ষর করে এই তহবিলের আওতায় পুনঃঅর্থায়ন সুবিধা নিতে পারবে।
সার্কুলারে তহবিলের অর্থ চারটি প্রধান খাতে বণ্টনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কৃষি উৎপাদন খাতে ১৫ শতাংশ, কৃষিপণ্য সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে ৩৫ শতাংশ, কৃষিভিত্তিক পণ্য উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণে ৩৫ শতাংশ এবং কৃষিপণ্য ও কৃষিভিত্তিক পণ্যের রপ্তানি খাতে ১৫ শতাংশ অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে এই অনুপাত সমন্বয় করা যাবে। সূত্র: ইনকিলাব
