বাঘার তিন শিক্ষার্থীর উদ্ভাবনে চমক : জেলা-উপজেলায় প্রথম হয়ে এবার জাতীয় মঞ্চে লড়বে তারা

বাঘা প্রতিনিধি 

মাঠের কাদা মাখা বাবার ঘাম ঝরানো টাকায় কেনা খাতা-কলম। সেই খাতা-কলম দিয়েই স্বপ্ন আঁকলো দুই কৃষকের ছেলে ও আরেক ব্যবসায়ীর সন্তান। তিনজনের স্বপ্ন মিলে তৈরি হলো এমন এক উদ্ভাবন, যা উপজেলা ও জেলা পেরিয়ে এবার জাতীয় মঞ্চে লড়বে।

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এনামুল হক, আকাশ আহমেদ ও ইয়াসির ইকবাল মাহি তাদের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন এবং ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ প্রজেক্ট নিয়ে আগামী ২৮ জুন ২০২৬ শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠেয় জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে।

এর আগে ষ্টার্ট আপ,“সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড উনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম”‘(ঝঃধৎঃঁঢ়, ঝপরবহপব চৎড়লবপঃ ধহফ ওহহড়াধঃরড়হ ওফবধ ঝযড়পিধংরহম চৎড়মৎধস’) এ তারা বাঘা উপজেলা পর্যায়ে প্রথম এবং গত রোববার(১৪ জুন) রাজশাহী জেলা পর্যায়ে রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলাকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করে। জেলা পর্যায়ে বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন, রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা পর্যায়ে বাছাই ও বাস্তবায়ন কমিটির  সদস্য সচিব জায়েদুর রহমান। এর আগে উদ্বোধন করেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম।

 এই তিন স্বপ্নবাজ হলেন- দুই প্রান্তিক কৃষকের ছেলে এনামুল হক ও আকাশ আহমেদ এবং একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ছেলে ইয়াসির ইকবাল মাহি। 

তিনজনই বাঘার শাহদৌলা সরকারি কলেজ এর একাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। তত্তাবধানে আছেন কলেজের শিক্ষক মতিউর রহমান ও আব্দুল হানিফ মিয়া।

 তাদের উদ্ভাবনী এই প্রজেক্ট- 

১. স্মার্ট প্রিন্টিং ভেন্ডিং মেশিন : বিকাশ/নগদে পেমেন্ট করে শিক্ষার্থীরা ১০ সেকেন্ডে অ্যাসাইনমেন্ট, ফরম প্রিন্ট করতে পারবে। এতে করে গ্রামের স্কুলের প্রিন্টিং ঝামেলা আর থাকবেনা। 

২. ডিজিটাল এডুকেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম: শিক্ষার্থীর হাজিরা, রেজাল্ট, বেতন, অভিভাবকের এসএমএস – সব এক অ্যাপেই। শিক্ষকদের কাগজের খাতা-কলমের কাজ ৮০% কমে যাবে।

  শিক্ষার্থীরা বলেন, “২৮ জুন আমাদের স্বপ্নপূরণের দিন। আমরা বাঘার ছেলে। ঢাকায় গিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাবা-মা, শিক্ষক ও বাঘাবাসীর মুখ উজ্জ্বল করবো ইনশাআল্লাহ।”

তাদের বাবারা বলেন, “২৮ তারিখের জন্য দিন গুনছি। ছেলেকে পড়াতে গিয়ে  অনেক কষ্ট করতে হয়েছে। যদি জাতীয় পর্যায়ে জেতে,  সব কষ্ট সার্থক হবে।”

শিক্ষক মতিউর রহমান  ও আব্দুর হানিফ বলেন, “জাতীয় পর্যায়ের জন্য এখন রাত-দিন প্রস্তুতি চলছে। ২৮ তারিখ ঢাকায় ওদের আত্মবিশ্বাসই মূল অস্ত্র।”

রাজশাহী জেলা শিক্ষা অফিসার ও জেলা পর্যায়ে বাছাই ও বাস্তবায়ন কমিটির  সদস্য সচিব জায়েদুর রহমান বলেন, “দুই কৃষকের ছেলে আর এক ব্যবসায়ীর ছেলে মিলে যা দেখালো, তা বিস্ময়কর। ২৮ জুন ঢাকার জাতীয় মঞ্চে ওরা রাজশাহীর প্রতিনিধিত্ব করবে। আমার বিশ্বাস, ওরা চ্যাম্পিয়ন হয়েই ফিরবে।”কলেজটির অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) জাহাঙ্গীর আলম বলেন,২৮ জুন ঢাকার মঞ্চে বাঘার মাটির গন্ধ নিয়ে দাঁড়াবে তার কলেজের তিন শিক্ষার্থী। বাঘাবাসীর দোয়া এখন ওদের সাথেই।

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট