পুঠিয়াউপজেলাস্বাস্থ্যকেন্দ্রেরসরকারিঅ্যাম্বুলেন্সগেলকোথায়!

স্টাফ রিপোর্টার

সরকারী অ্যাম্বুলেন্স গেলো কোথায়? সরকারি সম্পদ কি এভাবেই হারিয়ে যেতে পারে? রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স খুঁজে না পাওয়ায় এমন প্রশ্ন মানুষের মাঝে প্রায় দুই বছর ধরে নিখোঁজ পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালের গ্যারেজে অ্যাম্বুলেন্সটি থাকার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে কোনো হদিস মিলছে না এমন কি এই অ্যাম্বুলেন্সের অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দিতে পারছেন না সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা

 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে ব্যবহৃত নতুন অ্যাম্বুলেন্সটি গ্যারেজে থাকলেও পুরোনো অ্যাম্বুলেন্সটির কোনো চিহ্ন নেই হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তাকর্মচারীর সঙ্গে কথা বলেও তার অবস্থান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য মেলেনি

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি রোগী পরিবহন উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ২০০৪ সালে সরকারি উদ্যোগে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে একটি অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করা হয় প্রত্যন্ত এলাকার রোগীদের দ্রুত জেলা সদর বা বিশেষায়িত হাসপাতালে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত সেই যানটি পরে ২০২০ সালে নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ পাওয়ার পর সেটিই নিয়মিত ব্যবহৃত হতে থাকে তবে পুরোনো গাড়িটি বিকল্প যান হিসেবে সংরক্ষিত ছিল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা হতো বলে জানা যায়

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মচারীর দাবি, ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ের পর থেকে আর হাসপাতালের গ্যারেজে দেখা যায়নি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্সটিকে কোথায়, কীভাবে কিংবা কার নির্দেশে সেটি সরানো হয়েছে, সে বিষয়ে কেউ নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছেন না ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের অভিযোগ, সরকারি সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণ তদারকিতে চরম গাফিলতির ফলেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকলেও তার খোঁজে কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে না পড়ায় উদ্বেগ বাড়ছে

স্থানীয়দের প্রশ্ন, জনগণের করের টাকায় কেনা একটি সরকারি যানবাহন প্রায় দুই বছর ধরে উধাও থাকলেও বিষয়টি এতদিন নজরের বাইরে রইল কীভাবে? যদি গাড়িটি নষ্ট হয়ে থাকে, তবে কোথায় রাখা হয়েছে? আর যদি অন্য কোথাও স্থানান্তর করা হয়ে থাকে, তবে তার নথিপত্র কোথায়?

বিষয়ে পুঠিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সূচনা বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে অ্যাম্বুলেন্সটি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে

তবে স্থানীয়দের দাবি, কেবল আশ্বাসে নয়, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অ্যাম্বুলেন্সটির প্রকৃত অবস্থান শনাক্ত করতে হবে একই সঙ্গে দায়িত্বে অবহেলা বা অনিয়মের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে কারণ একটি সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের রহস্যজনক অন্তর্ধান শুধু প্রশাসনিক ব্যর্থতার প্রশ্নই তোলে না, বরং জনস্বার্থ রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষার বিষয়টিকেও সামনে নিয়ে আসে

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট