চামড়া খাতে সিন্ডিকেট ভাঙার আহ্বান, এতিমদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিতের দাবি সোহানী শিফার
নতুন প্রভাত ডেক্স
কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ, সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা ও বাজারে সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সোহানী শিফা। তিনি অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর ধরে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট চামড়া খাত নিয়ন্ত্রণ করছে, যার ফলে এতিমখানা ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
গতকাল সোমবার (২৫ মে) দৈনিক ইনকিলাব ডিজিটালকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন দৈনিক ইনকিলাব ডিজিটালের নিউজ এডিটর (মাল্টিমিডিয়া ইনচার্জ) সাংবাদিক তানভীর খন্দকার।
সাক্ষাৎকারে অতীতে আমিনবাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির পশুর চামড়া অব্যবস্থাপনার কারণে ফেলে রাখার ঘটনা প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সোহানী শিফা বলেন, ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এবারও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে একই চিত্র দেখা যেতে পারে।
তিনি দাবি করেন, সিলেট অঞ্চলের অনেক মাদ্রাসা ইতোমধ্যে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে দেশের চামড়া শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সোহানী শিফা বলেন, সরকার এখনো এমন কোনো কার্যকর মূল্য নির্ধারণ করতে পারেনি, যা চামড়া সংগ্রহে জড়িত এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের শ্রম ও বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, “আপনি বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করবেন, আর একটি চামড়ার দাম দিবেন মাত্র ৫০ টাকা—এটা কোনোভাবেই ন্যায্য নয়।”
তিনি আরও বলেন, কোরবানির পশুর চামড়ার আয় মূলত এতিমদের হক। অথচ ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় বিভিন্ন স্থানে চামড়া ফেলে দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
চামড়া খাতকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজি, অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের একটি অংশ এই খাতের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। ফলে প্রকৃত সংগ্রাহক ও এতিমখানাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যদি চামড়া শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে চায়, তাহলে দ্রুত একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি এতিম ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে কোরবানির মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর হাজার কোটি টাকার চামড়া বাণিজ্য হলেও মাঠপর্যায়ে সংগ্রাহকরা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পান না। সংরক্ষণ সংকট, মধ্যস্বত্বভোগী ও বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত হয়ে আসছে।
সূত্র: ইনকিলাব
