কাপড়ে বেঁধে-মই দিয়ে সন্তানদের বাঁচালেও শেষরক্ষা হলো না মায়ের

ভয়াবহ আগুনে পুড়ছে আবাসিক ভবন। আগুনের ভয়াল শিখা আর ঘন ধোঁয়ায় বের হয়ে আসার উপায় না পেয়ে বাসিন্দারা সবাই ছুটে গিয়েছিলেন ছাদে। সেখান থেকে সাহায্যের আকুতি জানান তাঁরা। এমন অবস্থায় নিজের কথা না ভেবে সন্তানদের বাঁচানোর কথাই আগে ভেবেছেন ভারতের উত্তর প্রদেশের প্রয়াগরাজের বাসিন্দা অর্চনা। তারপর বুদ্ধি খাটিয়ে সন্তানদের বাঁচাতে পারলেও নিজেকে রক্ষা করতে পারলেন না তিনি। গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে একটি আবাসিক ভবনে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ভবনটির নিচতলায় একটি ক্রোকারিজের (কাচ ও চিনামাটির বাসনপত্র) দোকান ও গুদাম ছিল। আর ওপরের তলাগুলোয় কয়েকটি পরিবারের বসবাস। রাত ৯টার দিকে ওই দোকানে শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘন ধোঁয়া ওপরের তলাগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে এবং ভবনটি থেকে বাইরে বের হওয়ার পথ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। জীবন বাঁচাতে পরিবারের সদস্যরা মরিয়া হয়ে ছাদের দিকে ছুটে যান। এই পরিস্থিতিতে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দেন অর্চনা নামের ওই নারী। নিজের এক বছর বয়সী সন্তানকে তিনি প্রথমে একটি চাদরে জড়ান। এরপর ছাদের ১২ ফুটের একটি ফাঁকা অংশ পেরিয়ে চাদরটি সাবধানে পাশের বাড়ির ছাদের দিকে নামিয়ে দেন। ওপাশে থাকা প্রতিবেশীরা চাদরের প্রান্তটি ধরে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় টেনে নেন। এরপর একটি মই ব্যবহার করে নিজের ১৩ বছর ও ১০ বছর বয়সী দুই মেয়েকে পাশের বাড়ির ছাদে পাঠিয়ে দেন। একই কায়দায় তিনি তাঁর স্বামীর ভাইয়ের ছেলেকেও বাঁচান।

তবে শিশুগুলোকে নিরাপদে সরিয়ে নিলেও আগুন ও ধোঁয়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেননি অর্চনা। তাঁর শরীর মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। প্রতিবেদনে জানা যায়, আগুনে তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়েও দগ্ধ হয়েছে এবং সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সূত্র: আজকের পত্রিকা

ভালো লাগলে, প্লিজ শেয়ার করুন

এ ধরনের আরো কিছু পোস্ট